মনজু বিজয় চৌধুরী, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০২৬ বিকাল ০৫:২৬:৪৫
শ্রীমঙ্গলে শত বছরের বসতভিটা বিক্রির অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে হিন্দু পরিবারের দাবি
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় এক হিন্দু পরিবারের শত বছরের পুরোনো বসতভিটা প্রতারণার মাধ্যমে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার সংবাদ সম্মেলন করে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে।
শুক্রবার (১০ মার্চ) সকালে উপজেলার ভূনবীর ইউনিয়নের পাত্রীকুল গ্রামের নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাবুল দাশ এ অভিযোগ তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে বাবুল দাশ জানান, প্রায় একশ’ বছর আগে তার বাবা মৃত রুক্ষিনী দাশ স্থানীয় সত্যেন্দ্র কুমার ভট্টাচার্যের কাছ থেকে পাত্রীকুল মৌজার আরএস ৫৭৮, ৫৭৭ ও ৫৭৫ নম্বর দাগে ৪২ শতক জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে সেখানে বসতঘর নির্মাণ করে তারা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। সে সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে জমি রেজিস্ট্রির প্রচলন না থাকায় মৌখিক চুক্তির ভিত্তিতে জমি কেনাবেচা হয়। দলিল করে দেওয়ার আশ্বাস থাকলেও সত্যেন্দ্র কুমার ভট্টাচার্যের মৃত্যু হওয়ায় তা আর সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে জমিটি শত্রু সম্পত্তি হিসেবে ডিসি খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হয়।
তিনি আরও জানান, সত্যেন্দ্র কুমারের ছেলে শুকুমার ভট্টাচার্য ওরফে হিরক ভট্ট তাদের নামে জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে মামলা পরিচালনার খরচের কথা বলে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা নেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি জমি রেজিস্ট্রি করে দেননি।
বাবুল দাশের অভিযোগ, সম্প্রতি শুকুমার ভট্টাচার্য গোপনে ওই জমিসহ মোট ২৭ কেয়ার জমি হবিগঞ্জের রিচি এলাকার তাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেন। গত বছরের ৫ অক্টোবর তাজুল ইসলাম লোকজন নিয়ে এসে জমি নিজের নামে কেনার দাবি করলে বিষয়টি তারা জানতে পারেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় মুরুব্বি ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে গ্রামের প্রবীণরা স্বীকার করেন যে, বাবুল দাশের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ওই জমিতে বসবাস ও ভোগদখল করে আসছে। তবে ক্রেতা তাজুল ইসলাম তা অস্বীকার করে উল্টো হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বাবুল দাশ দাবি করেন, তাকে ও তার পরিবারকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তার একমাত্র ছেলেকে গুম ও প্রাণনাশের ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এছাড়া বাড়ির পাশের চলাচলের পথ ও পানির উৎস ব্যবহারে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, “এই জমিই আমাদের একমাত্র সম্বল। প্রতারণার মাধ্যমে আমার বসতভিটা অন্যের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। এখন আমাদের উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র চলছে।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শুকুমার ভট্টাচার্যের বড় মেয়ে নিবেদিতা ভট্টাচার্য সুমি তার বাবার মুঠোফোনে জানান, তার বাবা অসুস্থ হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি আছেন। সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, অভিযোগকারীরা কোনো দলিলপত্র দেখাতে পেরেছেন কি না। তিনি আরও জানান, তারাও বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বাবুল দাশ।
সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকসহ স্থানীয় হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের শতাধিক গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।