রুহুল আমিন কিবরিয়া, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৬ রাত ০৭:৩৭:২৮
৪০ বছর পর উদ্ধার হলো শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের কোটি টাকার জমি
বগুড়ার শিবগঞ্জে দীর্ঘ চার দশক ধরে প্রভাবশালী মহলের জবরদখলে থাকা শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪১ শতক সরকারি জমি অবশেষে উদ্ধার করেছে প্রশাসন। আওয়ামী লীগ নেতাসহ দখলদারদের নির্মিত অবৈধ মার্কেট ও বাসাবাড়ি উচ্ছেদ করে প্রায় ২৫ কোটি টাকা মূল্যের সম্পদ বিদ্যালয়ের দখলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) সকাল থেকে উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে জমির ওপর গড়ে ওঠা একাধিক মার্কেট, দোকানঘর ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য অংশ নেন। ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড়ও দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র বিদ্যালয়ের মূল্যবান এই জমি দখল করে ভোগদখল করে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, দখলদারদের মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আজিজুল হকও ছিলেন। তার একার দখলেই ছিল প্রায় ২০ শতক জমি।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, বছরের পর বছর বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেও তারা জমি উদ্ধার করতে পারেনি। দখলদাররা বিদ্যালয়ের জায়গায় অবৈধভাবে মার্কেট ও ভবন নির্মাণ করে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য পরিচালনা করেছে।
গত ১১ মে অনুষ্ঠিত উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা সভায় বিষয়টি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপির নজরে আনা হয়। অভিযোগ শুনে তিনি দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে তদন্তে সরকারি জমি দখলের সত্যতা পাওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়।
ইউএনও জিয়াউর রহমান বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা সভায় অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হয়। তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় আজ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। দীর্ঘ ৪০ বছর পর বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।”
উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, “বিদ্যালয়ের মূল্যবান সম্পদ একটি অসাধু চক্র বছরের পর বছর দখল করে রেখেছিল। প্রশাসনের এই পদক্ষেপ সরকারি সম্পদ উদ্ধারে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”
বিদ্যালয়ের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান বলেন, “বহু বছর ধরে আমরা জমি উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ধর্ণা দিয়েছি। অবশেষে জায়গাটি উদ্ধার হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে দখলদারদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন পর বিদ্যালয়ের হারানো সম্পদ ফিরে পাওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে। একই সঙ্গে সরকারি জমি উদ্ধারে প্রশাসনের এই অভিযানকে সাহসী ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন তারা।