রুহুল আমিন কিবরিয়া, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩ আগস্ট ২০২৬ রাত ০৭:৪৮:৫০
শিশু রজনী হত্যা মামলার বিচার ঝুলে তিন বছর, ব্যানারে ন্যায়বিচার চাইলেন বাবা
বগুড়ার ধুনটে আট বছর বয়সী শিশু মায়দা আক্তার রজনীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচারকাজ তিন বছরেও শেষ হয়নি। দীর্ঘসূত্রতায় ন্যায়বিচার নিয়ে হতাশায় ভুগছে নিহত শিশুটির পরিবার। দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যানার টাঙিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন নিহত রজনীর বাবা গাজিউর রহমান।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৪ মে বিকেল ৫টার দিকে ধুনট উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের এলাঙ্গী পশ্চিমপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক গাজিউর রহমানের মেয়ে, প্রথম শ্রেণির ছাত্রী মায়দা আক্তার রজনী (৮), বাড়ির সামনে খেলতে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে রজনীর বাবা ধুনট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পরদিন ৫ মে সন্ধ্যায় এলাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনে একটি পরিত্যক্ত স্থানের ঝোপঝাড় থেকে রজনীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় গাজিউর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে ধুনট থানায় মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। তাদের মধ্যে একজন বর্তমানে জামিনে মুক্ত রয়েছেন। তবে ঘটনার তিন বছর অতিবাহিত হলেও মামলার বিচার এখনো শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহত শিশুটির স্বজনরা।
নিহত রজনীর বাবা গাজিউর রহমান বলেন, “আমার মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিন বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা বিচার পাইনি। প্রতিটি দিন আমাদের কাছে অসহনীয়। আমি চাই, দ্রুত বিচার শেষ করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে আর কোনো পরিবারকে এমন বেদনা সহ্য করতে না হয়।”
তিনি আরও বলেন, বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও হতাশা তৈরি হচ্ছে। তাই ন্যায়বিচারের দাবিতে তিনি ধুনট উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার টাঙিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন।
নিহত শিশুটির পরিবারের দাবি, বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হলে বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।