নাজিরপুর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৮ এপ্রিল ২০২৬ রাত ০৭:৩৩:৪১
শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে বিল উত্তোলনের অভিযোগ
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় এক শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী (সিএ) মো. ইয়াসির আরাফাতের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৫৮ পৃষ্ঠার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক।
জানা যায়, নাজিরপুরের বাবুরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শংকর কুমার মিস্ত্রীর স্বাক্ষর জাল করে বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়ালের কাজের বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে গত ২ এপ্রিল তিনি প্রধানমন্ত্রীসহ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সংসদ সদস্য, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, বিভাগীয় কমিশনার (বরিশাল), শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ৯টি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। একই অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. মফিজুল ইসলাম।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বাউন্ডারি ওয়ালের কাজ সম্পন্ন না করেই চূড়ান্ত বিলের কাগজে স্বাক্ষর দিতে চাপ দেন অভিযুক্ত ইয়াসির আরাফাত। এতে প্রধান শিক্ষক স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। পরে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, তার স্বাক্ষর জাল করে পুরো বিল উত্তোলন করা হয়েছে।
অভিযোগকারী শিক্ষক জানান, স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবকের আবেদনের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। সেখানে তাকে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগও আনা হয়। তিনি বলেন, “আমি কোনো অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করিনি। বরং স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে।”
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ‘ইশতিয়াক কনস্ট্রাকশন’ নামের একটি লাইসেন্স ব্যবহার করে ইয়াসির আরাফাত বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ নিয়ন্ত্রণ করেন। লাইসেন্সটি তার বোন জামাই মো. রেজাউল শেখের নামে হলেও কার্যত কাজ পরিচালনা করেন আরাফাত নিজেই বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরও জানা যায়, ২০১০ সালে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে ২০১৪ সালে উপজেলা চেয়ারম্যানের সিএ পদে যোগ দেন ইয়াসির আরাফাত। এরপর থেকে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্য অভিযোগকারী মো. মফিজুল ইসলাম দাবি করেন, আরাফাত তার ৫৮ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখল করে ভোগ করছেন। এছাড়া বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম, কাজ না করে বিল উত্তোলনসহ কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
সম্প্রতি উপজেলা পরিষদের প্রায় ৪০ লাখ টাকার একটি প্রকল্পের ফাইল গায়েব এবং কাজ না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগ স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি জেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
এ বিষয়ে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাইদ জানান, সরকারি চাকরিতে থেকে অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো পেশায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
অন্যদিকে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের জেলা প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।”
তবে অভিযুক্ত ইয়াসির আরাফাত এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া শাহানাজ তমার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।