শামীম আহমেদ জয়, মতলব উত্তর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৬ বিকাল ০৪:৫৯:৩৩
ঘুষ-দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত মতলব উত্তর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, অভিযোগ ভুক্তভোগীদের
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে ঘিরে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, দলিল নিবন্ধনের সময় প্রতি লাখ টাকার বিপরীতে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে বাধ্য করা হয়। সাব-রেজিস্ট্রার মাহবুবের রহমান ওয়াজেদ, অফিস সহকারী নাসিমা বেগম এবং কিছু দলিল লেখকের সমন্বয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে বলে স্থানীয়দের দাবি। দলিল সম্পন্ন হওয়ার পর অতিরিক্ত অর্থ প্রধান সহকারীর মাধ্যমে আদায় করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, দলিল নিবন্ধনে ১ শতাংশ রেজিস্ট্রেশন ফি, ১.৫ শতাংশ স্ট্যাম্প শুল্ক, স্থানীয় সরকার কর ৩ শতাংশ এবং উৎস কর ইউনিয়নে ২ শতাংশ ও পৌরসভায় ৪ শতাংশ হারে নির্ধারিত। সে হিসেবে প্রতি লাখে পৌর এলাকায় ৯,৫০০ টাকা এবং ইউনিয়নে ৭,৫০০ টাকা জমা দেওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে দলিল গ্রহীতাদের কাছ থেকে প্রতি লাখে ১০ হাজার থেকে ১৩ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিশ্চিন্তপুর গ্রামের মো. নজরুল ইসলাম জানান, তিনি ১৩ লাখ ৫৬ হাজার টাকা মূল্যের জমির দলিল করতে গিয়ে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ টাকা খরচ করেছেন, যেখানে সরকারি হিসাবে খরচ হওয়ার কথা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ৭০০ টাকা। একইভাবে নবুরকান্দি গ্রামের মো. শাহজাহান ৭০ হাজার টাকার জমির জন্য ১২ হাজার টাকা খরচ করেছেন, যদিও সরকারি হিসাবে খরচ হওয়ার কথা ছিল ৫ হাজার ২৫০ টাকা।
প্রতিবেদকের পরিচয় গোপন রেখে এক দলিল লেখক শহিদুল ইসলাম জানান, প্রতি লাখে সাব-রেজিস্ট্রারকে ৫০০ টাকা এবং অফিস খরচ বাবদ অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়, যার কারণে নির্ধারিত টাকার চেয়ে বেশি নেওয়া হয়।
এছাড়া ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অফিস সহায়ক মো. ইব্রাহিম দলিলপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা না দিলে হয়রানির হুমকি দেন। দলিলের নকল তুলতেও অতিরিক্ত প্রায় ২ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে অফিস সহকারী নাসিমা বেগম বলেন, দলিল লেখকরা সরকারি ফি’র বাইরে যে অর্থ নেন, তা তারা নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করেন। এর একটি অংশ সমিতিতে জমা হয় এবং কিছু অফিস খরচে ব্যয় হয় বলে তিনি জানান।
সাব-রেজিস্ট্রার মাহবুবের রহমান ওয়াজেদ বলেন, “কিছু অভিযোগ পুরনো, তবে ভবিষ্যতে যেন এমন না হয় সে বিষয়ে তদারকি করা হবে।” অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।