মোঃ শফিকুজ্জামান সোহেল, গঙ্গাচড়া, রংপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৬ রাত ০৭:৩৪:৩১
নৌকায় ছাগল পারাপার, তিস্তায় জীবিকার লড়াই
সকালের আলো ফুটতেই ছোট নৌকাটি নিয়ে তিস্তা নদীতে নামেন ৬২ বছর বয়সী কৃষক আজিজার রহমান। নৌকায় থাকে তাঁর একে একে ২০টি ছাগল। নদী পেরিয়ে চরাঞ্চলে পৌঁছে ছাগলগুলোকে ছেড়ে দেন চরে। দিনভর চরেই ঘাস খেয়ে বেড়ায় ছাগলগুলো। বিকেলে আবার নৌকায় তুলে বাড়ির পথ ধরেন আজিজার।
রংপুরের গংগাচড়া ইউনিয়নের গান্নারপাড় গ্রামের সমসের আলীর ছেলে আজিজার রহমানের প্রতিদিনের জীবন এখন এমনই। ছাগল পালনই তাঁর পরিবারের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম অবলম্বন। নদী পেরিয়ে তিস্তার চরে ছাগল চরানো যেন তাঁর নিত্যদিনের সংগ্রামের অংশ হয়ে গেছে।
আজিজার রহমান জানান, একটি এনজিও থেকে পাওয়া ছাগল দিয়ে তাঁর এই যাত্রা শুরু। ধীরে ধীরে ছাগলের সংখ্যা বাড়তে থাকে। বর্তমানে তাঁর খামারে রয়েছে প্রায় ২০টি ছাগল। এসব ছাগল পালন করেই সংসারের খরচ চালানোর চেষ্টা করছেন তিনি।
তিনি বলেন, তিস্তায় চর জেগে ওঠার পর সেখানে ছাগলের খাবারের সংকট কিছুটা কমে যায়। চরে জন্মানো ঘাস ছাগলের জন্য সহজলভ্য হওয়ায় বাড়তি খাবারের খরচও কম লাগে। তাই প্রতিদিন নৌকায় করে ছাগল নিয়ে নদী পার হয়ে চরে যান তিনি।
তবে এই কাজ ঝুঁকিমুক্ত নয়। নদীর পানি বাড়লে কিংবা স্রোত বেশি থাকলে ছোট নৌকায় ছাগল পারাপার করা কঠিন হয়ে পড়ে। তারপরও জীবিকার তাগিদে প্রতিদিনই নদীতে নামতে হয় তাঁকে।
তিস্তাপাড়ের বাসিন্দারা জানান, নদী ও চরকে ঘিরেই এখানকার মানুষের জীবন-জীবিকা। কখনো পানি, কখনো ভাঙন, আবার কখনো জেগে ওঠা চর—প্রকৃতির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়েই জীবিকার পথ খুঁজতে হয় তাঁদের। কৃষিকাজের পাশাপাশি গবাদিপশু পালনও অনেক পরিবারের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
আজিজার রহমানের মতো অনেক কৃষক তিস্তার চরে জেগে ওঠা ঘাস ও খোলা জায়গাকে কাজে লাগিয়ে গবাদিপশু পালন করছেন। তাঁদের কাছে নদী যেমন দুর্ভোগের কারণ, তেমনি চর হয়ে উঠেছে জীবিকার নতুন সম্ভাবনা।
একটি ছোট নৌকা, কয়েকটি ছাগল আর তিস্তায় জেগে ওঠা চর—এই সামান্য সম্বল নিয়েই প্রতিদিন নতুন করে জীবনসংগ্রামে নামেন কৃষক আজিজার রহমান।