রুহুল আমিন কিবরিয়া, বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩ এপ্রিল ২০২৬ সকাল ১০:১৮:১৩
ধর্ষণ মামলার আসামি পলাতক, তবুও হাজিরা খাতায় সই—ধুনটে চাঞ্চল্য
বগুড়ার ধুনট উপজেলার সাতটিকরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী রোকনুজ্জামান (৪০) একটি ধর্ষণ মামলার আসামি। তিনি পুলিশের চোখে পলাতক থাকলেও প্রতিদিন কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে হাজিরা খাতায় সই করে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় সরেজমিনে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে হাজিরা খাতায় তার স্বাক্ষর দেখা গেলেও তাকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। এ সময় তার মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান দাবি করেন, রোকনুজ্জামান হাজিরা খাতায় সই করে জরুরি কাজে বাড়িতে অবস্থান করছেন এবং তিনি নিয়মিত চাকরি করছেন।
অন্যদিকে পুলিশ বলছে, ধর্ষণ মামলার আসামি রোকনুজ্জামানকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। থানায় মামলা দায়েরের পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন। রোকনুজ্জামান উপজেলার গোপালনগর ইউনিয়নের সাতটিকরি গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাতটিকরি গ্রামের এক কৃষকের মেয়েকে (৩৭) দীর্ঘদিন ধরে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন রোকনুজ্জামান। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গত ৬ ফেব্রুয়ারি দুপুর দেড়টার দিকে বাড়ির অদূরের রাস্তা থেকে ওই নারীকে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় তুলে ধুনট শহরের একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ সময় ভুক্তভোগীর চিৎকারে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে রোকনুজ্জামান কৌশলে পালিয়ে যান।
ঘটনার পর ৮ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগী নারী বগুড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে ১৪ ফেব্রুয়ারি ধুনট থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়।
এ বিষয়ে ধুনট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সইয়্যেদা জাহান বানু বলেন, “থানা থেকে মামলার বিষয়টি আমাকে অবগত করা হয়নি। তারপরও খোঁজখবর নিয়ে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ধুনট থানার এসআই সিরাজুল ইসলাম বলেন, “ব্যস্ততার কারণে আসামি রোকনুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। তবে খোঁজ নিয়ে জেনেছি, তিনি বাড়ি ছেড়ে পলাতক রয়েছেন।”