শামীম আহমেদ জয়, মতলব প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬ রাত ০৭:৫০:১৫
মতলব উত্তরে প্রকাশ্যে কুপিয়ে যুবককে হত্যাচেষ্টা, পা হারানোর শঙ্কায় মাসুম
চাঁদপুরের মতলব উত্তর একলাছপুর ইউনিয়নের মেঘনা নদীর পশ্চিম পাড়ের চরকাশিম গ্রামে মাসুম বকাউল (২৫) নামে এক যুবককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় তার দুই পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল)-এ আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অপারেশনের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে তার পা রাখা সম্ভব হবে কি না। এ কারণে পরিবারের সদস্যরা পা হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন।
শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত ৮টার দিকে একলাছপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চরকাশিম গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় একই গ্রামের শিপন খান ও ছেলে শামীম খানসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে মাসুম বকাউলকে একা পেয়ে ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। হামলাকারীরা তার দুই পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপ দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রায় দুই থেকে চার বছর আগে মাসুম বকাউলের সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল। পরে তিনি জীবিকার তাগিদে বিদেশে চলে যান। কয়েকদিন আগে দেশে ফেরার পর শুক্রবার রাতে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। তবে ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা গফুর বাদশা অভিযোগ করে বলেন, মাসুম বকাউল স্থানীয়ভাবে বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী। জেলা বিএনপির সদস্য ও বিসিবির পরিচালক সরকার মাহাবুব আহমেদ শামীমের ব্যানার লাগানোকে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত শামীম খানের সঙ্গে মাসুমের কথা কাটাকাটি হয়। ব্যানার লাগিয়ে বাড়ি ফেরার সময় পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়। শিপন খান ও তার ছেলে শামীম খানসহ হামলাকারীরা নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। পাশাপাশি তারা মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গেও জড়িত। পূর্বপরিকল্পিতভাবে মাসুমকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালানো হয়েছে।
আহত মাসুম বকাউলের বাবা জামাল বকাউল বলেন, আমার ছেলে শুক্রবার রাতে বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিল। পথে একা পেয়ে ওকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। আমার ছেলে এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। চিকিৎসকরা অপারেশনের পর জানাবেন তার পা রাখা যাবে কি না। আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।
হামলার পর থেকেই অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এ কারণে তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ নৃশংস হামলার ঘটনায় চরকাসিমসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত আহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।