কালকিনি (মাদারীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬ রাত ১০:৪১:৫৫
ইতালি যাওয়ার স্বপ্নে লিবিয়ায় নির্যাতনের শিকার, ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
লিবিয়া হয়ে ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে মাদারীপুরের এক তরুণের কাছ থেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া এবং বিদেশে নিয়ে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে একটি কথিত মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের দাবি, প্রতারণার ফাঁদে পড়ে তারা সর্বস্ব হারিয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে পরিবার।
ভুক্তভোগী মো. তাহসান মোল্লা, মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের মধ্য ব্রাক্ষন্দী গ্রামের মৃত জালাল মোল্লার ছেলে। তার মায়ের নাম মনিরা বেগম। বর্তমানে তিনি দেশে ফিরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর তাহসান বাংলাদেশ থেকে লিবিয়ার উদ্দেশে রওনা হন এবং তিন দিন পর বেনগাজিতে পৌঁছান। সেখানে দীর্ঘদিন আটকে রেখে নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর দেশে ফিরে ২০২৬ সালের ৭ জুলাই মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হন।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, সদর উপজেলার সিদ্দিখোলা এলাকার বাসিন্দা রুবিনা ও একই এলাকার লাইসু নামে দুই নারীর মাধ্যমে তাকে লিবিয়া হয়ে তিন মাসের মধ্যে ইতালিতে পাঠানোর আশ্বাস দেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, ইউরোপে স্বামী এবং ইতালিতে সন্তান থাকার কথা বলে ওই দুই নারী তাদের আস্থা অর্জন করেন। পরে বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়ার কথা বলে ধাপে ধাপে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হয়।
তাহসান মোল্লা বলেন, "লিবিয়ায় নেওয়ার পর আমাকে নিয়মিত মারধর করা হতো। ভিডিও কলে পরিবারের সঙ্গে কথা বলিয়ে নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে টাকা আদায় করা হয়। প্রথমে ২৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে জিম্মি করে আরও ১৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়। এখন আমরা নিঃস্ব।"
তাহসানের বড় বোন মোছাম্মৎ সুফিয়া আক্তার বলেন, "আমরা মোট ৪০ লাখ টাকা দিয়েছি। পরিবারের সবকিছু বিক্রি করে এই টাকা জোগাড় করেছি। এখন আমরা নিঃস্ব। আমরা এই প্রতারণার বিচার চাই এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করব।"
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত রুবিনার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মাদারীপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিয়া রফিক ভাবনা বলেন, মানব পাচারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অবৈধ মানব পাচার প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে লিবিয়া হয়ে ইউরোপে যাওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। তাই মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। তাদের আশা, সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে এ ধরনের প্রতারণার ঘটনা কমে আসবে।