রাঙামাটি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬ রাত ০৯:৩৭:২৮
রাঙামাটিতে ১২৮ স্থানে পাহাড়ধস, সেতু ভেঙে বান্দরবানের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ
টানা সাত দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটিতে ভয়াবহ দুর্যোগ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জেলার অন্তত ১২৮টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কের ব্রিজঘাট সেতুর একটি অংশ ধসে পড়ায় দুই জেলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া বাজার বন্যার পানিতে তলিয়ে গিয়ে দেড় শতাধিক দোকানপাট ও ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে।
জেলা প্রশাসন ও রাঙামাটি সড়ক বিভাগ জানায়, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কের ব্রিজঘাট সেতুর এক পাশের বড় অংশ ধসে পড়ে। এতে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে জরুরি সেবা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ এবং সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ (বেরিবাঁধ) না থাকায় প্রতি বর্ষা মৌসুমেই এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বান্দরবান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা খান হীরামনি বলেন, "আমিও পরিবারসহ পানিবন্দি হয়ে পড়েছি। সেতুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।"
অন্যদিকে, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যায় রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া বাজার পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে কমবেশি দেড় শতাধিক দোকানপাট ও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি রাজস্থলী উপজেলারও বেশ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হওয়ায় জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে।
রাঙামাটি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান, ব্রিজঘাট সেতুর এক পাশ ধসে পড়ায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ঘটনাস্থলটি বান্দরবান সড়ক বিভাগের অধীন। দ্রুত যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে সেখানে একটি বেইলি সেতু স্থাপন জরুরি বলে তিনি জানান।
জেলা প্রশাসন ও সড়ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১১ জুলাই) পর্যন্ত রাঙামাটি জেলার অন্তত ১২৮টি স্থানে ছোট-বড় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কাপ্তাই উপজেলায় ১৫টি, বাঘাইছড়িতে ৩টি, কাউখালীতে ৩০টি, রাঙামাটি সদরে ১১টি, নানিয়ারচরে ২টি এবং বিলাইছড়িতে ৩৭টি পাহাড়ধসের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। বাকি ঘটনাগুলো জেলার অন্যান্য এলাকায় ঘটেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আরও নতুন নতুন স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটতে পারে। এতে জেলার বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল আরও ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ১০টি উপজেলায় ২১২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে। এর মধ্যে বর্তমানে ৩৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে মোট ৪ হাজার ২৬৬ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রিতদের জন্য তিন বেলা খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।