শফিকুজ্জামান সোহেল, গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬ রাত ১০:২১:৩৫
গঙ্গাচড়ায় চরম বিদ্যুৎ সংকট, বিপাকে শিক্ষার্থী ও অসুস্থ রোগীরা
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় প্রতিদিনই ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে কয়েক দফায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিন-রাত মিলিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন শিশু, অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষরা।
বেতগাড়ী এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, “দিন-রাতে মিলিয়ে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। গরমে ছোট শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। মোবাইল চার্জ দিতেও সমস্যা হচ্ছে।”
গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা শিউলি বেগম বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকায় পানির মোটর চালানো যায় না। রান্নাবান্না ও ঘরের কাজেও সমস্যা হচ্ছে। অথচ বিল ঠিকই দিতে হয়।”
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। এসএসসি পরীক্ষার্থী রাব্বি হোসেন বলেন, “রাতে পড়াশোনা করতে পারি না। দিনের বেলাতেও অনলাইনে পড়তে সমস্যা হচ্ছে। পরীক্ষার আগে এমন পরিস্থিতি খুবই দুশ্চিন্তার।”
কলেজছাত্রী তানজিলা আক্তার বলেন, “প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় পড়ালেখায় মনোযোগ রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। ফ্যান না চলায় ছোট ছোট শিশুরাও অসুস্থ হয়ে পড়ছে।”
লাবিব নামে এক অভিভাবক বলেন, “গরমে ছেলেমেয়েরা ঠিকমতো ঘুমাতে পারে না। বিদ্যুৎ না থাকায় পানির মোটরও চলে না, ফলে পানির সংকট দেখা দিচ্ছে।”
লক্ষীটারি ইউনিয়নের বাসিন্দা ও শ্বাসকষ্টের রোগী আব্দুল খালেক বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকলে ফ্যান বন্ধ হয়ে যায়, খুব কষ্ট হয়। রাতে ঘুমাতে পারি না। অনেক সময় নেবুলাইজার চালাতেও সমস্যা হয়।”
স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও জানান, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে দোকান ও ছোট ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। বিশেষ করে ফ্রিজ ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রনির্ভর ব্যবসাগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ গঙ্গাচড়া জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক মো. ফরাদ হোসেন বলেন, রংপুর ১৩২/৩৩ গ্রিড উপকেন্দ্রের টি-২ এবং টি-৩ বাস কাপলারের সমস্যার কারণে বুড়িরহাট, হারাগাছ ও দর্শনা ৩৩ কেভি ফিডার বন্ধ রয়েছে। বিকল্প ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালুর চেষ্টা চলছে। গঙ্গাচড়া বাজারসহ কিছু এলাকায় সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ চালু করা হয়েছে এবং দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয়রা দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।