কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬ রাত ০৯:৫২:১৫
‘জয় বাংলার বিদায় হয়েছে, জিন্দাবাদের বিজয় হয়েছে’: কিশোরগঞ্জে লস্কর মো. তসলিম
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লস্কর মো. তসলিম বলেছেন, “জুলাইয়ের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির মাস চলছে। একসময় সারাদেশে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান শোনা যেত। এখন সেই পরিস্থিতি নেই। জয় বাংলার বিদায় হয়েছে। আর এখন জিন্দাবাদের বিজয় হয়েছে। আশা করি, জিন্দাবাদ এদেশে প্রতিষ্ঠিত হবে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের মানুষ প্রমাণ করেছে, তারা জয় বাংলাকে চায় না।”
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে কিশোরগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার আয়োজিত ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
লস্কর মো. তসলিম বলেন, বর্তমান পরিবেশে স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ সহজে অর্জিত হয়নি। অতীতে তাদের ওপর বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন-নিপীড়ন চালানো হয়েছে। কয়েকজন একত্রিত হলেও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হতো এবং জঙ্গি হিসেবে আখ্যায়িত করারও চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। একই সময়ে একটি গোষ্ঠী দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়ে রাষ্ট্রের অর্থ বিদেশে পাচার করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে তরুণ-যুবক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের আন্দোলনের মাধ্যমে সেই শক্তির পতন ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির মাসে আন্দোলনে নিহতদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে। তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং আহতদের সুস্থতা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য দোয়া করেন তিনি।
দেশের কল্যাণ, শ্রমিকদের অধিকার এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে হবে যাতে কোনো স্বৈরাচারী শাসন আর দেশে ফিরে আসতে না পারে।
জুলাই আন্দোলনে নিহতদের বিচার দাবি করে লস্কর মো. তসলিম বলেন, আন্দোলনের সূচনা ছাত্ররা করলেও বিপুলসংখ্যক শ্রমিক জীবন দিয়েছেন। তাই শ্রমিকদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। স্থানীয়ভাবে শহীদদের কবর জিয়ারত, তাদের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া এবং পাশে দাঁড়ানোকে তিনি নৈতিক দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন।
এ সময় তিনি জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। পাশাপাশি কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ চাই, যেখানে মানুষ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারবে, নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে এবং সবার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে। শ্রমিক-জনতাকে ঐক্যবদ্ধ করে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।”
সম্মেলনে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মো. রমজান আলী।
জেলা শাখার সভাপতি খালেদ হাসান জুম্মনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা শাখার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আজিজুল হক, মাওলানা নাজমুল ইসলাম এবং অধ্যক্ষ মোসাদ্দেক ভূঁঞা।
সম্মেলনে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার চার শতাধিক শ্রমিক প্রতিনিধি অংশ নেন। বক্তারা শ্রমিকদের অধিকার, কল্যাণ, সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার এবং শ্রমিকদের মধ্যে ঐক্য ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।