গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬ রাত ০৬:৫৩:১৭
ক্লাসরুমে কোমরসমান পানি, বই-খাতা নষ্ট: টুঙ্গিপাড়ায় ৩৬০ শিক্ষার্থীর পাঠদান বন্ধ
টানা বর্ষণে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্নি ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বর্নি জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। গত তিন দিন ধরে মাদ্রাসার মাঠ ও শ্রেণিকক্ষ বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ৩৬০ শিক্ষার্থী।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ৩৬০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এর মধ্যে নূরানী বিভাগে রয়েছে প্রায় ২০০ জন কোমলমতি শিশু। দিনাজপুর, বরিশাল, বাগেরহাট, নোয়াখালী ও খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অনেক শিক্ষার্থী আবাসিক ও অনাবাসিক হিসেবে এখানে পড়াশোনা করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টির পানি নূরানী বিভাগের শ্রেণিকক্ষে ঢুকে কোমরসমান উচ্চতায় জমে রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের বই-খাতা, বিছানাপত্র ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা-উপকরণ ভিজে নষ্ট হয়েছে। পানি জমে থাকায় গত তিন দিন ধরে কোনো শ্রেণিতে পাঠদান সম্ভব হয়নি।
মাদ্রাসার সহকারী মোহতামিম মাওলানা ইমদাদুল হক বলেন, "প্রতি বর্ষা মৌসুমেই আমরা ভয়াবহ জলাবদ্ধতার মুখোমুখি হই। সামান্য বৃষ্টিতেই মাদ্রাসার ভবন ও পুরো প্রাঙ্গণ পানিতে তলিয়ে যায়। পানি বের হওয়ার কোনো ড্রেন না থাকায় কোমলমতি শিশুদের পাঠদান চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আমরা সরকার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। দ্রুত একটি ড্রেন নির্মাণ অথবা স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।"
নূরানী বিভাগের শিক্ষক মুফতি সাইফুল বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই নূরানী বিভাগের শ্রেণিকক্ষগুলো সবার আগে তলিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।
মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা মেহরাফ হোসেন নোমানী বলেন, "দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দরিদ্র ও এতিম শিশুরা এখানে পড়তে আসে। বর্তমানে পুরো মাদ্রাসা মাঠ ও শ্রেণিকক্ষ পানির নিচে। দ্রুত একটি ড্রেন নির্মাণ করে শিশুদের জন্য স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানাই।"
স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্নি গ্রামের অন্যতম বৃহৎ এই দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতি বর্ষায় একই ধরনের জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তারা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ড্রেন নির্মাণ এবং শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন।