নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৫ আগস্ট ২০২৬ রাত ০৭:৫১:৫৩
শিক্ষাঙ্গনে হামলার ঘটনায় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের
দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি জড়িতদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের আহত নেতাকর্মীদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম, সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ডাকসুর সাবেক জিএস এস এম ফরহাদ, জামায়াত নেতা কামাল হোসেন এমপি, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য মোবারক হোসেন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য শাহীন আহমেদ খান, জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতারা।
জামায়াত আমীর বলেন, গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি অভিযোগ করেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা, ঢাকা কলেজ ও বাংলা কলেজে হামলার ঘটনায় ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা জড়িত ছিলেন।
তিনি দাবি করেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচিত ভিপি, জিএসসহ অনেক শিক্ষার্থীকে গুরুতরভাবে আহত করা হয়েছে। অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেভাবে হেলমেট ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটত, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতেও একই ধরনের কৌশল অনুসরণ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, হামলা ঠেকাতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষও আহত হয়েছেন এবং তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে।
তিনি বলেন, "বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রতি আমাদের আহ্বান—শুধু নেতাকর্মীদের সংযত থাকার নির্দেশ দিলেই হবে না, যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান দলীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় জনগণ মনে করবে, এসব কর্মকাণ্ডে দলের পরোক্ষ সমর্থন রয়েছে।"
হাসপাতালে আহতদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, আহতদের স্বজনরাও হামলার শিকার হয়েছেন। একজন আহত শিক্ষার্থীকে দেখতে যাওয়া তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীও হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমীর বলেন, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো হামলার শিকার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হলে জনগণের মধ্যে ভুল বার্তা যাবে।
আলিফ নামে এক আহত তরুণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা তাকে দেখতে গেলেও সরকারি দলের পক্ষ থেকে কেউ খোঁজ না নেওয়া বিস্ময়কর। তিনি বলেন, সরকার সব নাগরিকের সরকার এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব সবার প্রতি সমান আচরণ নিশ্চিত করা।
দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের প্রকৃত সমস্যাগুলো থেকে দৃষ্টি সরাতে যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হয়ে থাকে, তবে জনগণ তা বুঝতে পারছে।
তিনি বলেন, জনগণের দাবি আদায়ে জামায়াতে ইসলামী রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাবে এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কাজ করবে। একই সঙ্গে তিনি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং দেশকে একটি শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।