নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬ রাত ০৬:১৮:৫৬
ন্যায়বিচারের স্বার্থেই শহীদ সাংবাদিক তুরাব হত্যার বিচার হওয়া উচিত: ডা. শফিকুর
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, শহীদ সাংবাদিক এটিএম তুরাবের হত্যাকাণ্ডের বিচার শুধু একটি পরিবারের প্রত্যাশা নয়, এটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার জন্যও অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, তুরাব হত্যার বিচার না হলে ভবিষ্যতে তুরাবের মতো সাহসী ও সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিক তৈরি হবে না।
রোববার সকালে চব্বিশের জুলাই গণআন্দোলনের সময় দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের গুলিতে নিহত সাংবাদিক এটিএম তুরাবের সিলেটের বিয়ানীবাজার পৌর শহরের ফতেহপুরস্থ কবর জিয়ারত ও তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “শহীদ সাংবাদিক তুরাবদের রক্তের বিনিময়েই আজ দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয়, শহীদ হওয়ার দুই বছর পার হলেও তাঁর হত্যার বিচার কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। ন্যায়বিচারের স্বার্থেই এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার হওয়া উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা সাংবাদিক তুরাবের হত্যার বিচারের দাবি আরও জোরালো করবো। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হতেই হবে। আমরা জানি না বর্তমান সরকার এ বিচার করবে কি না। তবে আমরা বিশ্বাস করি, শেষ বিচারের দিনে অবশ্যই তুরাব ন্যায়বিচার পাবেন।”
কবর জিয়ারত শেষে ডা. শফিকুর রহমান শহীদ সাংবাদিক তুরাবের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি তুরাবের বড় ভাই আবু আজরফ মো. জাবুরসহ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান, তাদের খোঁজখবর নেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন, জেলা নেতা মাওলানা ফয়জুল ইসলাম, বিয়ানীবাজার উপজেলা আমির মোস্তফা উদ্দিন, নায়েবে আমির আবুল খায়ের, পৌর আমির জমির হোসাইন, নায়েবে আমির সৈয়দ আবু কয়ছর কাজল, সেক্রেটারি ছাদ উদ্দিন এবং উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি রুকন উদ্দিনসহ স্থানীয় নেতারা।
সাংবাদিক এটিএম তুরাব দৈনিক নয়া দিগন্ত-এর তৎকালীন সিলেট ব্যুরো প্রধান এবং দৈনিক জালালাবাদ-এর স্টাফ রিপোর্টার ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুলাই গণআন্দোলনের সময় সিলেট নগরীর কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন।
উল্লেখ্য, শহীদ সাংবাদিক তুরাবের কবর জিয়ারতের আগে ডা. শফিকুর রহমান তাঁর নানা মাস্টার জোয়াদুর রহমান, প্রবীণ জামায়াত কর্মী মুহুরী আব্দুল খালিক এবং লেখক ও গবেষক আব্দুল হাকিম তাপাদারের কবর জিয়ারত করেন। পরে তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন এবং স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।