নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকাল ০৩:৩৩:৩৩
স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ইতিহাস বাংলাদেশে আগে ঘটেনি: ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তপনা, চাঁদাবাজি, জমি ও বাড়ি দখলের ঘটনা অহরহ ঘটলেও রাতের আঁধারে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিরপুর-১-এর ভাঙচুর ও গুঁড়িয়ে দেওয়া রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ও সালমান মুক্তাদির স্টুডিও পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ইতিহাস বাংলাদেশে এর আগে ঘটেনি। আমরা বিভিন্ন দেশে এমন ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা দেখেছি। কিন্তু বাংলাদেশে একটি জনকল্যাণমূলক স্বাস্থ্যকেন্দ্র রাতের আঁধারে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ১৯৭৪ সাল থেকে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে দরিদ্র মানুষ থেকে শুরু করে উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান পর্যন্ত চিকিৎসা ও টিকাদান সেবা পেয়ে আসছেন। এটি বিদেশি দাতা সংস্থার সহযোগিতায় পরিচালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্যকেন্দ্র। এমন একটি প্রতিষ্ঠান ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া শুধু একটি স্থাপনার ওপর হামলা নয়; এটি জনস্বাস্থ্য ও সাধারণ মানুষের অধিকারকে আঘাত করার শামিল।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন জাতিসংঘ সফরে ছিলেন, ঠিক সেই সময়ে রাজধানীতে একটি ঐতিহ্যবাহী স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে দেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত এ ঘটনায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন এবং বিষয়টি আমাদের জানিয়েছেন।
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র দখলের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাকর্মী ও একজন মহিলা এমপির সম্পৃক্ততার অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা কারও বিরুদ্ধে আগাম রায় দিতে চাই না। তবে গণমাধ্যমে যেসব অভিযোগ এসেছে, সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। সরকারকে অবিলম্বে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় আনতে হবে।
তিনি বলেন, সারারাত ধরে হামলা ও ভাঙচুর চলেছে। ট্রাকে করে বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো,পাশেই পুলিশ অবস্থান করলেও তারা লুটপাট প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই ব্যর্থতার দায় অবশ্যই নির্ধারণ করতে হবে।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনার দুই দিনের মধ্যে ইসিবি চত্বরে তরুণ প্রজন্মের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এরপর আদাবরে দিনদুপুরে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, মুগদায় জমি দখলের অভিযোগ এবং আশুলিয়ার একটি মাদ্রাসায় চাঁদার দাবিতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সবকিছু মিলিয়ে দেশে যেন লুটপাট ও দখলের এক মহড়া চলছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মের একজন পরিচিত ব্যক্তির প্রতিষ্ঠান যদি এভাবে হামলার শিকার হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার অবস্থা কী! তা সহজেই অনুমেয়। রাষ্ট্র যদি নাগরিকের জানমাল, সম্পদ ও প্রতিষ্ঠান রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়বে।
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের ভাবমূর্তি ও জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে অবিলম্বে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
তিনি রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ধ্বংসের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পুনর্নির্মাণ করে জনসাধারণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ সময় এবি পার্টির নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. আবদুল ওহাব মিনার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া, আলতাফ হোসাইন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান,অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহকারী দপ্তর সম্পাদক আব্দুল হালিম নান্নু, মশিউর রহমান মিলু, সহ সাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুর রব জামিল,যুব পার্টির উত্তরের সদস্য সচিব ইশরাত জাহান, বরিশালের নেতা ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ, মিরপুর মডেল থানার আহ্বায়ক শেখ মনিরুজ্জামান,
রমনা থানার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সী,বরিশাল জেলা নেতা ইঞ্জিনিয়ার রাশেদুল ইসলাম, মোঃশাকিল, বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাত্রপক্ষ আহবায়ক আইয়ুব নবী।