মো. আরিফ হোসেন চৌধুরী
প্রকাশ : ৩ আগস্ট ২০২৬ বিকাল ০৪:৩৯:৩৮
খিলক্ষেতে বহিষ্কৃত বিএনপি নেতার সহযোগীর বিরুদ্ধে এআই ছবি ব্যবহার ও চাঁদাবাজির অভিযোগ
রাজধানীর খিলক্ষেতে সরকারি জমি, রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাটকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা মশিউর রহমান মসির সহযোগী হিসেবে পরিচিত মামুন বর্তমানে ওই চক্রের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে উপস্থাপন করতে মামুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে নিজের ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করে প্রচার করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাবের ধারণা সৃষ্টি করে বিভিন্ন স্থানে চাঁদা আদায়ে এই ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি চাঁদাবাজির একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর মামুনের কয়েকজন সহযোগীকে খিলক্ষেত বাজারের প্রধান সড়কে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করা হয়। এ সময় মামুন পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত ছাড়াই মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, দল থেকে বহিষ্কারের পর মশিউর রহমান মসি প্রকাশ্যে সক্রিয় না থাকলেও তাঁর অনুসারীদের মাধ্যমে চাঁদাবাজির কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তাঁদের দাবি, অবৈধভাবে আদায় করা অর্থের একটি অংশ এখনও মসির কাছে পৌঁছে যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর খিলক্ষেত এলাকায় সরকারি জমি দখল, অস্থায়ী দোকান স্থাপন এবং বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের ঘটনা বেড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বাজার, ফুটপাত, পরিবহন ও অন্যান্য খাত থেকেও নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে মশিউর রহমান মসির আর্থিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন হয়েছে। তাঁদের দাবি, উত্তরপাড়া বটতলা এলাকায় তাঁর পূর্বের টিনশেড ঘরের জায়গায় বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। এ ছাড়া একটি মাদ্রাসার সাইনবোর্ড পরিবর্তন করে এলাকার নাম পরিবর্তনের অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামুন বলেন, “ছবিটি এআই প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে। আমি ভুল করেছি।” তিনি আরও জানান, তাঁর বাড়ি নারায়ণগঞ্জ। তবে চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেননি।
এ বিষয়ে খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোহরাব আল হোসাইনের কাছে তারেক রহমানের এআই প্রযুক্তিতে তৈরি ছবির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এআই ব্যবহার করে কারও ছবি অপব্যবহারের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (কমপ্লেইন) করতে হবে। তিনি অভিযোগ না করলে পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই।
এ ছাড়া খিলক্ষেত এলাকায় রেলওয়ের জমিতে অবৈধ দোকান স্থাপনের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ওসি বলেন, বিষয়টি তাঁর এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না এবং এ বিষয়ে তাঁর কোনো করণীয় নেই।
অন্যদিকে, বিমানবন্দর রেলস্টেশনের ম্যানেজার শাহাদাত হোসেন বলেন, “রেললাইনের ৩০০ গজের মধ্যে কোনো দোকানপাট থাকার সুযোগ নেই। রেলওয়ের মালিকানাধীন সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে খিলক্ষেত থানা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা সরকারি জমি দখল, অবৈধ দোকান স্থাপন এবং চাঁদাবাজির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।