বিডিএ আইন, মেট্রোপলিটন পুলিশ, দ্বিতীয় যমুনা সেতু ও সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যানেও আশাবাদ
রুহুল আমিন কিবরিয়া, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬ দুপুর ০১:২২:৩১
চার জেলার অকুণ্ঠ সমর্থন, বগুড়া বিভাগ বাস্তবায়নে বড় অগ্রগতি
উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার বগুড়াকে দেশের নতুন বিভাগ হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবিতে এবার মিলেছে বড় ধরনের রাজনৈতিক সমর্থন। জয়পুরহাট, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ ও গাইবান্ধা—এই চার জেলার সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীরা বগুড়াকে স্বতন্ত্র বিভাগ করার প্রস্তাবে সর্বসম্মত সমর্থন জানিয়েছেন। এতে দীর্ঘদিনের এ দাবির বাস্তবায়নে নতুন আশার আলো দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় বগুড়া জেলা প্রশাসন অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘বগুড়া জেলা ও বগুড়া সিটি করপোরেশনের সমন্বিত উন্নয়ন’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “চার জেলার সব এমপি ও মন্ত্রীরা অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়েছেন যাতে বগুড়ায় নতুন একটি বিভাগ হয়। চার জেলা নিয়ে যদি সিলেট, বরিশাল কিংবা ফরিদপুরের মতো বিভাগ হতে পারে, তাহলে উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র বগুড়াও অবশ্যই একটি স্বতন্ত্র বিভাগ হওয়ার যোগ্য।”
তিনি বলেন, প্রতিবেশী চার জেলার জনপ্রতিনিধিদের এই ঐকমত্য সরকারের জন্য বিষয়টি বাস্তবায়নকে আরও সহজ করবে। এ সময় তিনি সভায় উপস্থিত প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিষয়টি দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় বগুড়ার যোগাযোগ, নগর উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক আধুনিকায়ন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, দ্বিতীয় যমুনা সেতু গাবতলী-সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ হয়ে টাঙ্গাইলের সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা এগিয়ে চলছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ আরও দ্রুত ও ব্যয় সাশ্রয়ী হবে।
শহরের যানজট নিরসনে বগুড়া শহরের মধ্য দিয়ে চলা রেললাইনের ওপর ওভারপাস নির্মাণ এবং নিচ দিয়ে ট্রেন চলাচলের সমন্বিত নকশা চূড়ান্ত করার কাজও এগিয়ে চলছে বলে জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা জোরদারে জেলার থানাগুলোর জন্য অন্তত ২০টি নতুন পুলিশের গাড়ি সরবরাহের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি গাবতলী ও আদমদীঘির পর জেলার অবশিষ্ট ১০টি থানাকে মডেল থানায় উন্নীত করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার পাঠানো হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডিএ) খসড়া আইন ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে। একই সঙ্গে বগুড়া সিটি করপোরেশনকে মেট্রোপলিটন পুলিশিংয়ের আওতায় আনার কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে।
পরিকল্পিত নগরায়ণের লক্ষ্যে বগুড়ার জন্য সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন এবং উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০০৮ সালের পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা (পিপিআর) সংশোধন করে নতুন ঠিকাদারদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সংশোধিত বিধিমালা আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই জারি হবে বলেও জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় বগুড়া-১ থেকে বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য, সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশীদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ উজ্জ্বল হোসাইনসহ স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।