আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬ বিকাল ০৫:৪৬:২৭
ইরান যুদ্ধকে ‘ছোটখাটো বিচ্যুতি’ বললেন ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ একটি ‘ছোটখাটো বিচ্যুতি’ বা মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার কৌশল হিসেবে বর্ণনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যার উদ্দেশ্য হলো ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ভেঙে দেওয়া।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) নেভাদা অঙ্গরাজ্যের লাস ভেগাসে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, এই সংঘাতের কারণে মার্কিন জনগণের কাছে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমছে।
এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার প্রথম মেয়াদে দেশের ইতিহাসে অর্থনীতির অবস্থা সেরা ছিল। ইরানের মতো একটি সুন্দর দেশে আমাদের এই ছোটখাটো বিচ্যুতি সত্ত্বেও এখন আমরা সেটিকে আরও এগিয়ে নিচ্ছি’।
ইরানের সম্ভাব্য পারমাণবিক সক্ষমতার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এটা করতেই হতো। না-হলে খারাপ কিছু ঘটতে পারত— খুবই খারাপ কিছু।’
এরআগে ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধটি ‘প্রায় সমাপ্তির পথে, তবে একই সাথে ইরানকে একটি চুক্তিতে আনতে হামলা বাড়ানোর হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি অনুযায়ী, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা মজুত না করার বিষয়ে একমত হয়েছে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে যে চুক্তিটি নিয়ে আলোচনা চলছে, সেটির মেয়াদ ২০ বছরেরও বেশি হতে পারে।
এই চুক্তির সম্ভাবনাকে ‘খুবই উজ্জ্বল’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরানের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আগামী সপ্তাহান্তেই পরবর্তী বৈঠক হতে পারে। চুক্তিটি চূড়ান্ত ও স্বাক্ষরিত হলে তিনি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ সফর করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন।
এদিকে এই সংঘাতের ফলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়া, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং হাজার হাজার হতাহতের ঘটনাসহ ব্যাপক আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে নিজ দেশেই সমালোচনার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প।
গত সপ্তাহের শেষে পরিচালিত ইপসোসের এক জরিপে দেখা গেছে, ১ হাজারের বেশি উত্তরদাতার মধ্যে ৫১ শতাংশ মনে করেন, ইরান যুদ্ধের জন্য যে ব্যয় হচ্ছে, তা যুক্তিযুক্ত নয়। অন্যদিকে মাত্র ২৪ শতাংশ উত্তরদাতা এর বিপরীত মত দিয়েছেন। এছাড়াও ৬৫ শতাংশ মার্কিন ভোটার জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির জন্য ট্রাম্পকে দায়ী করেছেন এবং ৫৮ শতাংশ পরিস্থিতি মোকাবেলায় তার পদক্ষেপকে সমর্থন করেননি।
সূত্র: এএফপি