বিদায়ী অর্থবছরে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়ে প্রথমবারের মতো তিন হাজার ডলার ছাড়িয়েছে।বুধবার (১০ জুন) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মাথাপিছু আয় ও জিডিপিসহ অন্যান্য সূচকের সাময়িক হিসাব প্রকাশ করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।এতে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়ে ৩ হাজার ২০ ডলার হয়েছে। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে) ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪২০ টাকা। একইসঙ্গে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হারও খানিকটা বেড়েছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেশি। এর আগে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সাময়িক হিসাবে মাথাপিছু আয় ছিল ২ হাজার ৮২০ ডলার। আর জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ। তবে চুড়ান্ত হিসাবে মাথাপিছু আয় ৫১ ডলার কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ৭৬৯ ডলার। আর জিডিপি প্রবৃদ্ধি দশমিক ৪৮ শতাংশ পয়েন্ট কমে ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশে নেমে আসে। বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ায় মাথাপিছু আয়ের শীর্ষে রয়েছে মালদ্বীপ। দেশটিতে মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার ৯২০ ডলার। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৯৪০ ডলার এবং পাকিস্তানের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৫৮০ ডলার। সে হিসেবে বর্তমানে ভারত-পাকিস্তানের চেয়েও বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় বেশি।
২০ মিনিট আগে
দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে চলতি বছরের জুন-আগস্ট সময়ের জন্য প্রায় ১৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকার জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে গ্যাস অয়েল, জেট ফুয়েল, ফার্নেস অয়েল ও গ্যাসোলিন।বুধবার (১০ জুন) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এসব জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এসব জ্বালানি তেল আমদানি করবে।অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইউনিপেক সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড থেকে প্যাকেজ নং-পি জি-০১-এর আওতায় গ্যাস অয়েল (০.০০৫ শতাংশ সালফার) ও জেট এ-১ আমদানি করা হবে।এতে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৬৭২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। একই ধরনের গ্যাস অয়েল ও জেট এ-১ আমদানির জন্য প্যাকেজ নং-পি জি-০২-এর আওতায় আনুমানিক ৬ হাজার ৭১১ কোটি ৭৫ লাখ টাকার ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ প্যাকেজের দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে সিঙ্গাপুরের ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড।এ ছাড়া প্যাকেজ নং-পি জি-০৩-এর আওতায় ফার্নেস অয়েল (১৮০ সিএসটি) আমদানির জন্য ১ হাজার ৯০০ কোটি ৫ লাখ টাকার প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। এই তেল সরবরাহ করবে সিঙ্গাপুরের আরেক প্রতিষ্ঠান ট্রাফিগুরা প্রাইভেট লিমিটেড।বৈঠকে প্যাকেজ নং-পি জি-০৪-এর আওতায় গ্যাসোলিন-৯৫ আনলেডেড আমদানির জন্য ৭৪৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকার ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এ চালানের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানও হচ্ছে সিঙ্গাপুরের ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড।সব মিলিয়ে চারটি প্যাকেজের আওতায় মোট ১৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকার জ্বালানি তেল আমদানির পথ খুলে গেল। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বড় ক্রয় আদেশ পাচ্ছে ইউনিপেক সিঙ্গাপুর, যার মূল্য প্রায় ৭ হাজার ৬৭৩ কোটি টাকা।
২ ঘন্টা আগে
ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. খুরশিদ আলমের অপসারণসহ ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন ব্যাংকটির আন্দোলনরত গ্রাহকরা। দাবি পূরণ না হলে সারাদেশের গ্রাহকদের নিয়ে আরও বড় কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।বুধবার (১০ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র অধ্যাপক নুর উন-নবী।নুর উন-নবী বলেন, গ্রাহকদের ছয় দফা দাবি স্মারকলিপি আকারে অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়ন করা হবে বলে তারা আশা করছেন। অন্যথায় সারাদেশের গ্রাহকদের নিয়ে আরও বৃহৎ পরিসরে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।অধ্যাপক নুর উন-নবী বলেন, ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যানকে অপসারণ, ব্যাংক থেকে লুটপাট ও পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা, ব্যাংকের মালিকানা প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবিসহ ছয় দফা দাবি তারা সরকারের কাছে তুলে ধরেছেন।তিনি আরও বলেন, তাদের দাবিগুলো যৌক্তিক। তাই দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্রাহকদের উদ্বেগ দূর করা হবে বলে তারা প্রত্যাশা করছেন।ফোরামের আহ্বায়ক বলেন, দাবিগুলো পূরণ না হলে কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে। তিন কোটি গ্রাহককে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন আরও বিস্তৃত করা হবে বলেও জানান তিনি।এর আগে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি মিছিল নিয়ে সচিবালয়ের উদ্দেশে রওনা হন আন্দোলনকারীরা। তবে পল্টন মোড়ে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। পরে ফোরামের একটি প্রতিনিধিদলকে অর্থমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর আন্দোলনকারীরা পল্টন থেকে গুলিস্তানমুখী প্রধান সড়কে অবস্থান নেন। পরে পুলিশ তাদের সড়ক ছেড়ে যেতে অনুরোধ করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. খুরশিদ আলমের পদত্যাগের দাবিতে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম।গত ১ জুন ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন শুরু করে সংগঠনটি। সেদিন আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে তারা।উল্লেখ্য, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। পরে সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশিদ আলমকে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর পর থেকেই গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। একই আন্দোলনের মধ্যে গত ১ জুন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ওমর ফারুকের পদত্যাগপত্রও গৃহীত হয়।
৮ ঘন্টা আগে
দেশে তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকার ৫০০ কোটি টাকার ফান্ড গঠন করেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।মঙ্গলবার (৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের তৃতীয় দিন প্রশ্নোত্তর পর্বে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, যুবসমাজকে আত্মনির্ভরশীল করতে ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে যুব ও ক্রিড়া মন্ত্রণালয় এবং কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে সহজ শর্তে যুব ঋণ বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আগামী ২৬-২৭ অর্থবছরে স্টার্টআপ তহবিল, নারী উদ্যোক্তা তৈরি, নারী উন্নয়ন, ও তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে প্রস্তাবিত বরাদ্দ মোট ৪০০ কোটি টাকা। এছাড়া স্টার্টআপ ফান্ড নামে ৫০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হয়েছে। এখান থেকে ৪ শতাংশ সুদে তরুণরা লোন পাবেন। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতায় সরকার সারাদেশে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ও ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে। এখন পর্যন্ত সরকার ১৩ লাখ ১৭ হাজার কৃষককে ঋণ মওকুফের আওতায় এনেছে। এ বিষয়ে সরকার এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫৭০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছে। কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আগ্রহ আছে জানিয়ে তিনি বলেন, আসছে বাজেটে বিষয়টি ভালো প্রাধান্য পাবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের প্রধান কর্মসূচির মধ্যে অন্যতম কর্মসংস্থান তৈরি। এটা দূর করতে অন্যতম উপায় হচ্ছে দক্ষতা উন্নয়ন। কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করবে সরকার। কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ভোকেশনাল স্কুলগুলোর পাশাপাশি তরুণদের স্কিল ডেভেলপমেন্টের ব্যবস্থা করবে বর্তমান সরকার। তরুণদের ঋণদানের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে সহজ সর্তে ও স্বল্প সুদে (৭ শতাংশ সুদে) ৭ থেকে ৩৫ লাখ টাকা তরুণদের লোনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ সময় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু আরও বলেন, দেশের ক্যাপিটাল মার্কেট অত্যন্ত খারাপ অবস্থানে আছে, ক্যাপিটাল মার্কেটকে গতিশীল করতে সব ধরনের সংস্কার করবে সরকার।
১ দিন আগে