হত্যা মামলার তদন্ত চলাকালে আসামিপক্ষের বিক্ষোভ, এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা
বাগেরহাটের রামপালে আলোচিত এখলাস গাজী হত্যা মামলার তদন্ত চলমান থাকাবস্থায় মামলার কয়েকজন আসামির পক্ষে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদানকে কেন্দ্র করে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।গত ১ জুন রামপাল উপজেলা সদরের ব্যস্ত বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রকাশ্য হামলায় নিহত হন এখলাস গাজী নামে এক যুবক। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সাতজনকে আসামি করে রামপাল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত মাহামুদ শিকদার ওরফে মাইজেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মোংলা-রামপাল সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম বলেন, “এটি একটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড। ঘটনার পরপরই পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে একজন প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। মামলার তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে বাকি আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। কোনো অপরাধীই আইনের বাইরে থাকবে না। তদন্তের স্বার্থে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই পুলিশের মূল লক্ষ্য।”তিনি আরও বলেন, “হত্যা মামলার তদন্ত একটি চলমান প্রক্রিয়া। এ ধরনের স্পর্শকাতর ঘটনায় কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তি ছড়ানো উচিত নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছে এবং যথাযথ প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”এদিকে, ৪ জুন রামপাল উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কাজী অজিয়ার রহমান এবং উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আলমগীর কবির বাচ্চুর নাম হত্যা মামলায় অন্তর্ভুক্তির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। কর্মসূচিতে বক্তারা দাবি করেন, তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।তবে নিহতের স্বজনরা এ দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, একটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়ের হওয়ার পর তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটনের সুযোগ দেওয়া উচিত। তদন্ত চলমান অবস্থায় আসামিপক্ষের প্রকাশ্য প্রতিবাদ কর্মসূচি জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।বাদীপক্ষের কয়েকজন স্থানীয়ভাবে অভিযোগ করে বলেন, তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে ন্যায়বিচার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে বলে তারা মনে করেন।স্থানীয় সচেতন মহলের অনেকেই মনে করছেন, হত্যা মামলার মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় বিচারিক ও তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই পাল্টাপাল্টি অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।বর্তমানে মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।