হীরা আহমেদ জাকির,বিজয়নগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকাল ০৪:৩৭:৫১
ভারপ্রাপ্তের ভারে নুয়ে যাচ্ছে বিজয়নগর
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় তীব্র জনবল সংকটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
উপজেলার ৩৩টি সরকারি দপ্তরের মধ্যে অন্তত ১১টিতে নিয়মিত কর্মকর্তা না থাকায় অন্য কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে একদিকে কর্মকর্তাদের ওপর বাড়ছে অতিরিক্ত কাজের চাপ, অন্যদিকে ধীরগতি তৈরি হচ্ছে জনসেবায়। ফলে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
উপজেলার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর বর্তমানে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এসব দপ্তরের মধ্যে রয়েছে উপজেলা ভূমি অফিস, সমাজসেবা অধিদপ্তর, উপজেলা মৎস্য অফিস, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস, সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়, উপজেলা শিক্ষা অফিস, উপজেলা সহকারী প্রোগ্রামার, উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস, উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিস, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিস, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, সহকারী প্রকৌশলী (বিএডিসি), বিআরডিবি এবং ফায়ার সার্ভিস স্টেশন।
শিক্ষা খাতেও চরম জনবল সংকট-বিজয়নগরের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতেও জনবল সংকট অনুমোদিত ১০০টি প্রধান শিক্ষক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৫২ জন। শূন্য রয়েছে ৪৮টি পদ।ফলে অনেক বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষককে একসঙ্গে পাঠদান ও প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। সকালে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শেষে বিদ্যালয়ের হিসাব-নিকাশ, দাপ্তরিক চিঠিপত্র, অনলাইন কার্যক্রম, প্রশাসনিক কাজ এবং উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সভায় অংশগ্রহণ—সবই সামলাতে হচ্ছে শিক্ষকদের।
এতে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম যেমন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তেমনি অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্বের কারণে শিক্ষকদের ওপরও বাড়ছে চাপ।
স্বাস্থ্যসেবায়ও জনবল সংকট-উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও প্রয়োজনীয় জনবল সংকট রয়েছে,১২৮টি পদে শুন্যপদ৫৮টি।পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় স্বাস্থ্যসেবা দিতে সংশ্লিষ্টদের বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে। এতে কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়েও প্রশ্ন-জনবল সংকটের পাশাপাশি বিজয়নগরের উন্নয়ন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সড়কের টেন্ডার সম্পন্ন হলেও অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত কাজ শুরু বা শেষ হচ্ছে না।
এদিকে সীমান্তবর্তী এ উপজেলায় মাদক ও চোরাচালান নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। তাঁদের অভিযোগ, সীমান্ত দিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানের মালামাল প্রবেশ করছে। একই সঙ্গে এলাকায় অনলাইন জুয়ার প্রবণতা বাড়ছে।
রাতের আঁধারে পুকুর ও কৃষিজমি ভরাটের ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি নৌ ও সড়কপথে বিভিন্ন ইটভাটায় কৃষিজমির মাটি পরিবহনের কারণে আবাদি জমি ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে।
দ্রুত পদক্ষেপের দাবি-স্থানীয়দের মতে, জনবল সংকটের কারণে একাধিক দপ্তরের স্বাভাবিক কার্যক্রম যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি প্রশাসনের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপও বাড়ছে। এর সঙ্গে উন্নয়নকাজে ধীরগতি, মাদক ও চোরাচালান, অনলাইন জুয়া এবং কৃষিজমি রক্ষার মতো বিষয়গুলো কার্যকরভাবে মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
দ্রুত শূন্য পদগুলোতে জনবল নিয়োগের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের চাপ কমাতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন উপজেলাবাসী। একই সঙ্গে সড়ক উন্নয়নকাজে গতি আনা, মাদক ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ, অনলাইন জুয়া বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ এবং কৃষিজমি ও জলাশয় রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
জনসেবার স্বার্থে এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহমুদুর রহমান জানান,আমরা এসপি,ডিসি,এমপি মহোদয়ের সাথে আলোচনা করেছি,বিষয়টি অবগত করেছি,খুব শিগগিরই সমাধান হবে।
এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সুমন ভূঁইয়া জানান,স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং জেলা সিভিল সার্জন অফিসে চিঠি দিয়েছি,দ্রুত জনবল নিয়োগ দিবে আশাবাদী।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামসুর রহমান জানান, শূন্য পদগুলো পূরণে পর্যায়ক্রমে নতুন পদন্নোতি এবং নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে প্রধান শিক্ষক সংকট কমে যাবে।