ওমর ফারুক সোহাগ
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬ বিকাল ০৩:৩৭:১১
টেকনাফে পাহাড়ি জঙ্গলে তিন যুবকের লাশ উদ্ধার, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের আশঙ্কা
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়ন এর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গহীন পাহাড়ি জঙ্গল থেকে তিন যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতরা সবাই একই এলাকার উত্তর শিলখালী গ্রামের বাসিন্দা।
নিহতরা হলেন—নুরুল বশর (২৮), পিতা: নুরুল ইসলাম; রবি আলম (২৩), পিতা: রুহুল আমিন; এবং মুজিবুর রহমান (২৮), পিতা: নুরুল কবির।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে মোর্শেদ আলম নামের এক সন্ত্রাসী রবি আলমকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আজ ভোর ৬টার দিকে মোর্শেদ আলম তার ভাই মুজিবুর রহমানকে গুরুতর আহত অবস্থায় শামলাপুর এলাকার একটি ফার্মেসিতে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, নুরুল বশরকে পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত একটি গোপন আস্তানা থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। একই স্থান থেকে পুলিশ রবি আলমের মরদেহ উদ্ধার করে।
গোপন সূত্রে জানা গেছে, মোর্শেদ আলম গ্রুপ ও অজ্ঞাত আরেকটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, মোর্শেদ আলম তার আপন ভাই মুজিবুর রহমান, চাচাতো ভাই রবি আলম এবং সহযোগী নুরুল বশরকে গোপন আস্তানায় ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ বা সংঘর্ষের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই ঘটনার মূল রহস্য মোর্শেদ আলমের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে। তবে আরেকটি ধারণা অনুযায়ী, নিহতরা অপহরণ চক্রের সদস্য হতে পারে এবং কোনো ভিকটিম কৌশলে পালানোর সময় তাদের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ দূর্জয় বিশ্বাস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এছাড়া টেকনাফ মডেল থানা এর তদন্ত কর্মকর্তা সুকান্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করেছে।