মনজু বিজয় চৌধুরী, মৌলভীবাজার থেকে
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬ রাত ০৮:২২:৩৫
রাজনগরে প্রলোভনে শিশুকে দোকানে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা, অভিযুক্ত পলাতক
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় ৯ বছরের এক শিশুকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে দোকানের ভেতরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক দোকানদারের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা যায়, রাজনগর থানাধীন মনসুরনগর ইউনিয়নের মনসুরনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিশু হুমায়রা আক্তার (৯) তার মামার বাড়িতে অবস্থানকালে বাড়ির পাশের একটি মুদি দোকানে যায়। এ সময় দোকান মালিক দুলাল মিয়া (৩৫) তাকে চকলেট ও জুস দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দোকানের ভেতরে নিয়ে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, ভেতরে নিয়ে নির্জনতার সুযোগে সে শিশুটির ওপর ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় শিশুটি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে শুরু করলে অভিযুক্ত তাকে ছেড়ে দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে শিশুটি স্বজনদের কাছে গিয়ে পুরো ঘটনা জানায়।
ভুক্তভোগী শিশুর মা জেসমিন বেগম বলেন,আমাদের বাড়ি কালেঙ্গায়। পরিবারসহ মনসুরনগরে বেড়াতে গিয়েছিলাম। সেখানেই আমার মেয়ের সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে। দুলাল মিয়া নামের ওই দোকানি আমার মেয়েকে দোকানের ভেতরে নিয়ে গিয়ে এ কাজ করেছে।
শিশুটির বাবা আবুল হোসেন বলেন,গতকাল রাতে আমরা রাজনগর থানায় মামলা করেছি। থানায় গিয়ে মেয়ের বিস্তারিত ঘটনা জানিয়েছি। মামলা নেওয়া হয়েছে। আমি আমার মেয়ের সুষ্ঠু বিচার চাই। দুলাল মিয়ার উপযুক্ত শাস্তি চাই।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও ঘটনাটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ইউপি সদস্য মোহাম্মদ তসলির মিয়া বলেন,আমরা বিষয়টি নিয়ে একটি সমাধানের চেষ্টা করছি। শিশুটির মায়ের কাছ থেকে যা শুনেছি, তার ভিত্তিতে ঘটনাটি সত্য বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।
রাজনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ মো. ফরিদ আহমদ ভূঁইয়া বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
এ ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।