মোঃ নাহিদ প্রধান, নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৬ বিকাল ০৪:৪৮:০৩
নরসিংদীতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, ৯ দিন ধরে গৃহহীন প্রবাসীর স্ত্রী
এ ঘটনায় শাহিনুর বাদী হয়ে নরসিংদী জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রায়পুরা উপজেলার রহিমাবাদ এলাকার ইমন সওদাগরের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের পর প্রায় নয় মাস আগে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়। তবে মেয়ের পরিবারের কিছু সদস্য এ বিয়ে মেনে না নেওয়ায় স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রায়পুরা উপজেলা বিএনপির সদস্য আমিনুল হকের নেতৃত্বে একদল লোক ইমন সওদাগরের বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হামলার সময় শাহিনুরসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হন। পরে বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে আমিনুল হক তাদের কাছে নগদ ৩ লাখ টাকা এবং একটি আইফোন দাবি করেন। পরিবারের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তারা ওই টাকা ও মোবাইল ফোন দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন শাহিনুর।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অর্থ ও মোবাইল ফোন নেওয়ার পর চাপ প্রয়োগ করে ইমন সওদাগর ও তার স্ত্রীর বিবাহ বিচ্ছেদ করিয়ে দেওয়া হয়। এরপর পুনরায় বাড়িতে বসবাস করতে চাইলে শাহিনুরের কাছে ১৫ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
শাহিনুর বলেন, “আমার কাছে ১৫ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে। এর আগে বাধ্য হয়ে ৩ লাখ টাকা এবং প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের একটি আইফোন দিয়েছি। তারপরও আমাকে আমার বাড়িতে ফিরতে দেওয়া হচ্ছে না। বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব খাটিয়ে আমাকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “আমার স্বামী বিদেশে যাওয়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি আমাকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। আমি তাতে রাজি না হওয়ায় ঈদের পরদিন থেকে আমাকে সন্তানসহ বাড়িছাড়া করা হয়েছে। এমনকি কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।”
ভুক্তভোগীর দাবি, গত নয় দিন ধরে তিনি সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অভিযুক্তদের প্রভাবের কারণে স্থানীয় অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ অবস্থায় নিজেদের বসতভিটায় নিরাপদে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে নরসিংদী জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আমিনুল হক সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করে দেখুক। তদন্তে আমি দোষী প্রমাণিত হলে প্রশাসন আমার বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেবে, তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই।”
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে অভিযোগ তদন্তের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।