রুহুল আমিন কিবরিয়া, বগুড়া
প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬ বিকাল ০৫:৪২:০৫
বগুড়ায় পুলিশের পরিচয়ে ১০২ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৪
বগুড়ার শিবগঞ্জে পুলিশের পরিচয়ে বাস থামিয়ে ১০২ ভরি ১২ আনা স্বর্ণের বার ছিনতাইয়ের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ সময় লুণ্ঠিত স্বর্ণ বিক্রি করে পাওয়া ৮৮ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, উদ্ধার করা টাকা ছিনতাই হওয়া স্বর্ণ বিক্রির অর্থ বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে।
পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বগুড়া শহরের গালাপট্টি এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী মো. খায়রুল ইসলাম গত ৫ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে তাঁর খালাতো ভাই বাপ্পি হোসেনের মাধ্যমে ২৪ ক্যারেটের ১০টি স্বর্ণের বার জয়পুরহাটে পাঠান। বারগুলোর মোট ওজন ছিল ১০২ ভরি ১২ আনা।
ওই দিন দুপুর ১২টা ৫ মিনিটের দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা-জয়পুরহাট সড়কের উথলি এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা তিন থেকে চারজন ব্যক্তি পুলিশের পরিচয়ে বাসটি থামান। পরে বাপ্পি হোসেনকে বাস থেকে নামিয়ে মারধর করে তাঁর কাছ থেকে স্বর্ণের বার ও একটি মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তাঁকে শিবগঞ্জের গুজিয়া হাটের মণ্ডলপাড়ার একটি ফাঁকা জমিতে আহত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান তাঁরা।
এ ঘটনায় ২৭ অক্টোবর শিবগঞ্জ থানায় মামলা হয়। মামলাটির নম্বর ৩৩। দণ্ডবিধির ১৭০ ও ৩৯৪ ধারায় করা এ মামলার তদন্তে নামে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদের নির্দেশনায় ডিবির একটি দল অভিযান চালিয়ে প্রথমে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার দক্ষিণ বাসুদেবপুরের সাদিকুল ইসলামকে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার তিরনইহাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হাকিমপুরের মহিলা কলেজ এলাকা থেকে আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আলমগীরের বাড়ি থেকে ২৯ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তী সময়ে তাঁদের দেওয়া তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ভীমপুর এলাকা থেকে রবিউল ইসলাম ও আসাদুজ্জামান শাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, সাদিকুলের বাড়ি থেকে আরও ১৮ লাখ টাকা এবং শাহিদের গরুর খামারের অফিসকক্ষ থেকে ৪১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা টাকার পরিমাণ ৮৮ লাখ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও মারামারিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১০টি মামলা রয়েছে। রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে রয়েছে তিনটি মাদক মামলা, যেগুলো আদালতে বিচারাধীন।
এ ঘটনায় ছিনতাই হওয়া স্বর্ণের বারগুলো উদ্ধার হয়েছে কি না, সে বিষয়ে দেওয়া তথ্যের মধ্যে স্পষ্ট উল্লেখ নেই। মামলার তদন্তে স্বর্ণ উদ্ধারের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এদিকে, এ ঘটনায় বিস্তারিত জানাতে বুধবার বেলা ২টা ৩০ মিনিটে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।