স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ : ৫ নভেম্বর ২০২৬ রাত ১০:৪৩:৫২
দাপুটে ফুটবলে ভুটানকে হারিয়ে সাফ শুরু করল বাংলাদেশ
একের পর এক গোল মিসের হতাশায় পুড়ছিল বাংলাদেশ। ডিফেন্ডার থেকে ফরোয়ার্ডে খেলা বিশ্বনাথ ঘোষ সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারছিল না। কিছুতেই যখন কিছু হচ্ছিল না, তখন সুপার-সাব হিসেবে মাঠে নেমে নায়ক হয়ে যান মোহাম্মদ ইব্রাহীম। একমাত্র গোলটি করে বাংলাদেশকে জয় এনে দেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। আক্রমণ ফুটবল খেললেও বাংলাদেশকে ভুটানকে হারিয়ে ১-০ গোলে।
ম্যাচের প্রথম মিনিটেই আক্রমণে উঠেছিল বাংলাদেশ। ডানপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন রাকিব হোসেন। তবে ভুটানের ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিতে পারেননি তিনি।
৪ মিনিট পরই জোড়াল আক্রমণ করেছিল বাংলাদেশ। ডানপ্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে ঢুকে বক্সের মধ্যে ক্রস বাড়িয়েছিলেন রাকিব। বিশ্বনাথ ঘোষ লাফিয়ে উঠেও বলের নাগাল পাননি। তবে পেছনে থাকা জামাল ভূঁইয়া শট নিয়েছিলেন ফিরতি বলে। কিন্তু হেডে দারুণভাবে সেটি আটকে দেন ভুটানের ডিফেন্ডার।
ম্যাচের সপ্তম মিনিটে আরও একবার বাংলাদেশকে আটকে দেয় ভুটান। জামালের নেওয়া কর্ণার প্রথমে আটকে দেন ভুটানের গোলরক্ষক। ফিরতি বল পেয়ে ফাহিমের নেওয়া প্রথম শট ব্লক হয়ে যায়, তবে দ্বিতীবার দারুণ শট নেন তিনি। এবার ঝাঁপিয়ে পড়ে গোলমুখ থেকে সেটি আটকে দেন ভুটানের গোলরক্ষক।
ম্যাচের ১৪তম মিনিটে বক্সের অনেকটা বাইরে থেকে বাড়ানো বলে হেড করেছিলেন ফাহিম। সেটি গ্লাভসবন্দি করতে এগিয়ে এসেছিলেন ভুটানের গোলরক্ষক। তখনই লাফিয়ে উঠে হেড করার চেষ্টা করেছিলেন বিশ্বনাথ। তিনি হেড করতে না পারলেও বল গ্লাভসবন্দি করতে পারেননি ভুটানের গোলরক্ষক। দ্বিতীয় দফা চেষ্টা করলেও বল জালে জড়াতে পারেনি বাংলাদেশ।
এর ২ মিনিট পরই বিশ্বনাথের দুর্দান্ত হেডার অবশ্য চলে যায় বাইরে দিয়ে। ডানপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে বক্সের মধ্যে ক্রস বাড়িয়েছিলেন রাকিব। দ্বিতীয় পোস্টে বিশ্বনাথ লাফিয়ে উঠে হেডার করেন বিশ্বনাথ। তবে বল চলে যায় বাহির দিয়ে।
ম্যাচের ২৬তম মিনিটে নিশ্চিত গোল মিস করে বসে বাংলাদেশ। বামপ্রান্ত থেকে কর্ণার কিক নিয়েছিলেন জামাল। সেখান থেকে বক্সে লাফিয়ে উঠে হেড কিংবা ক্লিয়ার কিছুই করতে পারেনি কোনো ফুটবলার। সেই বল পেয়ে যান বিশ্বনাথ। তবে ফাঁকা জালে বর রাখতে পারেননি তিনি।
ম্যাচের ৩১তম মিনিটে প্রথমবার বাংলাদেশের বক্সে বল নিয়ে ঢুকতে পারে ভুটান। তবে বিপদ কিংবা সেভাবে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি তারা। বল ক্লিয়ার করে দেয় জিদান আহমেদরা।
৩৮তম মিনিটে আরও একবার বাংলাদেশকে হতাশ করেন বিশ্বনাথ। মাঝমাঠ থেকে বাড়ানো থ্রু-বল ফাঁকায় পেয়েছিলেন তিনি। একটু কঠিন কোণ ছিল। তবে বল গোলমুখেই রাখতে পারেনি বিশ্বনাথ।
দুই মিনিট পর উল্টো গোলহজম করতে বসেছিল বাংলাদেশ। আক্রমণে উঠে বক্সের একটু বাইরে থেকে বুলেট গতির শট নিয়েছিল ভুটানের ফরোয়ার্ড। তবে ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণভাবে সেটি গ্লাভসবন্দি করেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ।
ম্যাচের ৪৪তম মিনিটে আরও একাবর গোলের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। বামপাস থেকে সেটপিস নিয়েছিলেন জামাল। প্রথমবারে লাফিয়ে উঠে সেটিতে মাথা ছুঁইয়েছিলেন সাদ উদ্দীন। সেটি চলে দূরের পোস্টে। কিন্তু সেখানে বলের নাগাল পাননি জিদান আহমেদ কিংবা শমিত সোম কেউই। ফলে গোলশূন্য সমতায় থেকেই বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতি থেকে ফিরেও আক্রমণের ধার কমায়নি বাংলাদেশ। ৪৭তম মিনিটে জামালের কর্ণার থেকে আবারও সুযোগ এসেছিল। তবে ছয়গজ বক্সের মধ্যে লাফিয়ে উঠেও বলের নাগাল পাননি বাংলাদেশের কোনো ফুটবলার।
খেলার ধারার বিপরীতে ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে বাংলাদেশকে ভয় পাইয়ে দিয়েছিল ভুটান। মাঝমাঠে বল পেয়ে প্রতিআক্রমণে উঠেছিল ভুটান। বাংলাদেশের দুজন দু’বার বাধা দিয়েও আটকাতে পারেননি। তবে বক্সের বাইরে শেষ বাধা দেন জামাল। যে কারণে সেটি আর বড় কোনো ভুলের কারণ হয়ে উঠেনি।
ম্যাচের ৬০তম মিনিটে আরও একবার বাংলাদেশের রক্ষণে হানা দেয় ভুটান। কিছুটা ঢিলেঢালা আক্রমণ থেকে বক্সের বাইরে থেকে গতিময় শট নিতে চেয়েছিলেন ভুটানের প্রেমা জাঙ্কো। তবে সেটি কাজেম শাহর পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে বাইরে চলে যায়।
কয়েক মিনিট ভুটানের আধিপত্য শেষে আবারও আক্রমণে উঠে বাংলাদেশ। ৬৪তম মিনিটে প্রতিআক্রমণ থেকে বল পেয়ে যান বিশ্বনাথ। তিনি থ্রু-পাস বাড়ান ফাহমিদুল ইসলামের দিকে। তিনি বল নিয়ে বামপ্রান্ত দিয়ে বক্সের কাছে চলে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে শট নিয়েছিলেন। তবে সেটি ঠিকঠাক ছিল না।
ফরোয়ার্ড লাইনে খেলতে নামা বিশ্বনাথ ঘোষ একের পর এক সুযোগ হাত ছাড়া করছিলেন। কোচ টমাস ডুলি এরপর তার পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনেন। ৬৪তম বিশ্বনাথকে বসিয়ে মাঠে নামান ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ ইব্রাহীমকে। সেটাই কাজে দেয়। মাঠে নেমে পঞ্চম মিনিটেই বাংলাদেশকে এগিয়ে নেন ইব্রাহীম।
ম্যাচের ৬৯তম মিনিটে ডানপ্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে এগিয়ে গিয়ে বক্সে ক্রস বাড়ান রাকিব। বক্সে ছিল বাংলাদেশের দুজন ফুটবলার। শমিত হেডে বল প্লেসিং করে দেন ইব্রাহীমকে। প্লেসিং শটে সেটি জালে জড়িয়ে দিয়ে জাতীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারিকে জাগিয়ে তুলেন ইব্রাহীম। বাংলাদেশকে এনে দেন লিড।
শেষদিকে আর তেমন গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি কোনো দলই। বাংলাদেশ কয়েকবার চেষ্টা করেছে, তবে নিশ্চিত সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। ফলে ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশ।