কালকিনি, মাদারীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬ দুপুর ০১:৩২:১৩
মাদারীপুরের কালকিনিতে তাইজুল হত্যার পর ফের তাণ্ডব: অর্ধশতাধিক বাড়িতে বোমা হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ
মাদারীপুরের কালকিনিতে তাইজুল সরদার হত্যার জেরে তীব্র প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছে গ্রাম। তাইজুল হত্যার প্রতিশোধ নিতে হামলাকারীরা তাণ্ডব চালিয়ে সোমবার ২৬ অক্টোবর সকাল থেকে এ পর্যন্ত অন্তত অর্ধশতাধিক বসতবাড়িতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে। হামলার সময় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং একের পর এক বোমা বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে চারপাশ। কালকিনি উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের কালিনগর ও টুমচর গ্রামে দফায় দফায় এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এলাকায় দীর্ঘদিনের সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিলন সরদার ও প্রতিপক্ষ গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের ধরে গত ২২ অক্টোবর সকালে স্থানীয় একটি বাজারে তাইজুল সহ আরো তিনজন বোরখা পরে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের আঘাতে তাইজুল নিজেই হত্যার শিকার হয়। তাজুল হত্যার ঘটনার পর থেকেই পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা ও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার সকালে প্রতিপক্ষের শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কালিনগর ও টুমচর গ্রামে চড়াও হয়। শুরুতেই তারা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিলন সরদারের বাড়িসহ আশেপাশের সাধারণ মানুষের বাড়ি লক্ষ্য করে একের পর এক ককটেল ও হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করে। এর পরপরই ঘরবাড়িতে ঢুকে তাণ্ডব শুরু হয়—সবজি, আসবাবপত্র থেকে শুরু করে মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করে একে একে অন্তত অর্ধশতাধিক বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে গ্রামবাসী আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও মাদারীপুর জেলা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বড় ধরনের হতাহত এড়াতে পরিস্থিতি সামাল দেয়।
ঘটনা নিশ্চিত করে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, পুলিশ সুপারসহ আমরা সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট যে, তাইজুল সরদার হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতেই প্রতিপক্ষ এই তাণ্ডব চালিয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সহিংসতা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চলছে এবং এর সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। চরম থমথমে এই পরিস্থিতিতে নতুন করে যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।