নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ মে ২০২৬ রাত ০৯:০১:১২
‘ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণ জরুরি’
পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। তারা বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ও সবুজ পৃথিবী গড়তে এখন থেকেই সবাইকে গাছ লাগানোর আন্দোলনে সম্পৃক্ত হতে হবে।
ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড জাস্টিস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে কলারোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শুক্রবার সকাল অনুষ্ঠিত উপজেলা ব্যাপী ৫ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব মন্তব্য করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড জাস্টিস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান মামুন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরিচালক ও ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি আলমগীর কবির।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নর্দান ইউনিভার্সিটির ভিসি ড. মিজানুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন কলারোয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আক্তারুল ইসলাম, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার শেখ রেজাউল করিম, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট সিজিএম আসাদুজ্জামান মিলন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমান, সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শেখ ফারুক হোসেন, এবং অন্যান্য বিশিষ্টজনরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মিজানুর রহমান বলেন, "আজ যে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন হলো, তার সুফল সুদূরপ্রসারী। জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করতে বেশি গাছ লাগানো অত্যাবশ্যক। শুধু সরকার নয়, সমাজের প্রতিটি মানুষকে পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। একটি গাছ শুধু অক্সিজেন দেয় না, এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং মানবজীবনকে নিরাপদ রাখে।"
কলারোয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র আক্তারুল ইসলাম বলেন, "বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। তাই সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা করতে হবে। প্রতিটি পরিবার যদি বছরে কয়েকটি গাছ লাগায়, পরিবেশের বড় পরিবর্তন সম্ভব। তরুণ সমাজকে আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতে হবে।"
ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান মামুন বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দিন দিন ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও সামাজিক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের কর্মসূচির মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ৫ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হবে। আমরা চাই নতুন প্রজন্ম পরিবেশবান্ধব চিন্তাধারা নিয়ে বড় হোক এবং প্রকৃতি রক্ষায় এগিয়ে আসুক।"
শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার শেখ রেজাউল করিম বলেন, "কৃষি ও পরিবেশ একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ বেশি করে লাগাতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করবে।"
সিজিএম আসাদুজ্জামান মিলন যোগ করেন, "পরিবেশ রক্ষা এখন শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়, এটি মানবতার জন্য অপরিহার্য। করপোরেট প্রতিষ্ঠানকেও অংশগ্রহণ করতে হবে। তরুণদের সচেতন করা গেলে আগামী দিনে একটি সবুজ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।"
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সরকারি ও বেসরকারি অংশগ্রহণে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার বার্তা দিয়েছে।