রুহুল আমিন কিবরিয়া, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬ রাত ১২:৪২:১০
বগুড়ায় শ্যালিকাকে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় দুলাভাইয়ের যাবজ্জীবন
বগুড়ার কাহালুতে ১৫ বছর বয়সী শ্যালিকাকে অপহরণ ও ধর্ষণের মামলায় দুলাভাই মো. আল মোহাইমিনু মেহেদী হাসানকে (২৮) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার অপর দুই আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বগুড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মারুফ হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত মেহেদী হাসান আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি কাহালু উপজেলার পাইকপাড়া এলাকার মো. নুরুল ইসলামের ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৫ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কাহালু উপজেলার শিতলাইগ্রামে নিজ বাড়ি থেকে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয় ওই কিশোরী। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্বপরিকল্পিতভাবে মেহেদী হাসান, তাঁর ভাই মো. মামুন মন্ডল (৩৮), ভাগনে মো. রকি (২৬) এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজন একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তাকে তুলে নিয়ে যান। পরে একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় কিশোরীর মা লাবনী আক্তার বাদী হয়ে ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল কাহালু থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।
মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত মেহেদী হাসানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও দুই বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। অপর দুই আসামি মো. মামুন মন্ডল ও মো. রকির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁদের খালাস দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল মান্নান বলেন, এ রায়ে বাদীপক্ষের পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছে। সমাজে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে রায়টি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।