নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬ রাত ১১:২৯:১৬
চাকরির প্রস্তাব ফিরিয়ে ডিজিটাল মার্কেটিং করে মাসে লাখ টাকা আয় মাইনুলের
বাবার মৃত্যুর পর জীবিকার সন্ধানে চাকরি খুঁজেছেন নারায়ণগঞ্জের মাইনুল ইসলাম খান। একপর্যায়ে মাসে ৯ হাজার টাকা বেতনের চাকরির প্রস্তাব পেলেও অসুস্থ মাকে রাতে একা রেখে যেতে হবে বলে তাতে যোগ দেননি। পরে মায়ের জোগাড় করে দেওয়া ৪০ হাজার টাকায় কম্পিউটার কিনে শুরু করেন ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের কাজ। নানা বাধা পেরিয়ে এখন তিনি কাজ করছেন মিডিয়া বায়ার ও গ্রোথ স্ট্র্যাটেজিস্ট হিসেবে। মাইনুল জানান, বর্তমানে তাঁর মাসিক আয় প্রায় তিন থেকে চার হাজার মার্কিন ডলার।
২০১২ সাল থেকে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা ছিল মাইনুলের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমস্যায় পড়া ব্যক্তিদের সহযোগিতার পাশাপাশি গণমাধ্যম ও বিনোদনজগতের মানুষের সঙ্গেও কাজ করেছেন তিনি। তবে নিয়মিত উপার্জনের পথ তৈরি হয় বাবার মৃত্যুর পর।
২০২৩ সালের ৭ এপ্রিল বাবাকে হারানোর পর সংসারের দায়িত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েন মাইনুল। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি খুঁজেও সুবিধা করতে পারেননি। তখন আগে থেকে জানা প্রযুক্তির কাজকে পেশা হিসেবে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর পরিকল্পনায় সংশয় থাকলেও মা ৪০ হাজার টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেন। মায়ের কথাটি এখনো মনে রেখেছেন তিনি—‘তুই পারবি বাবা।’
সেই টাকা দিয়ে কেনা ল্যাপটপটি এক মাসের মাথায় নষ্ট হয়ে যায়। পরে মায়ের সহযোগিতায় পুরোনো ডেস্কটপ কম্পিউটার কিনে আবার কাজ শুরু করেন। ক্রিয়েটিভ আইটি ইনস্টিটিউটে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের প্রশিক্ষণ নিয়ে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও), গুগল অ্যাডস, মেটা অ্যাডস ও ওয়েব অ্যানালিটিক্সে দক্ষতা বাড়ান। ফাইভার ও আপওয়ার্কে কাজের অভিজ্ঞতাও অর্জন করেন।
২০২৩ সালের আগস্টে একটি জাতীয় দৈনিকে সিনিয়র ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যান্ড কনটেন্ট ডেভেলপার হিসেবে যোগ দেন। মাসিক বেতন ছিল ৩০ হাজার টাকা। পরে এক সহপাঠীকে নিয়ে ঢাকার মোহাম্মদপুরে মার্কেটিং এজেন্সি চালু করেন। সেখানে একপর্যায়ে প্রায় ১৫ জন কাজ করতেন। তবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন ক্লায়েন্ট কাজ বন্ধ করে দেন। একপর্যায়ে এজেন্সির কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে হয়।
এরপর দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যান মাইনুল। ২০২৪ সালের শেষ দিকে একটি বহুজাতিক প্রসাধনী প্রতিষ্ঠানে মিডিয়া বায়ার হিসেবে কাজের সুযোগ পান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে মাসে ১০ থেকে ১৫ হাজার মার্কিন ডলারের বিজ্ঞাপন বাজেট পরিচালনা করতেন।
বর্তমানে দেশি-বিদেশি ক্লায়েন্টদের জন্য মাসে প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ হাজার মার্কিন ডলারের বিজ্ঞাপন বাজেট পরিচালনা করেন তিনি। পাশাপাশি ব্যবসার প্রবৃদ্ধির কৌশল নির্ধারণ ও ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কাজ করছেন। এসব কাজ থেকে তাঁর মাসিক আয় তিন থেকে চার হাজার মার্কিন ডলার বলে জানান তিনি।
প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহারও শিখেছেন মাইনুল। এখন নেক্সট জেএস, ওয়ার্ডপ্রেস ও শপিফাই ব্যবহার করে ওয়েবসাইট তৈরির কাজেও এআইকে সহায়ক হিসেবে কাজে লাগাচ্ছেন।
মাইনুল জানান, প্রযুক্তিনির্ভর পেশায় টিকে থাকতে হলে নিয়মিত শিখতে হবে এবং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। এআই আমার শত্রু নয়, এআই এখন আমার পরম বন্ধু।’