মৌলভীবাজার থেকে, মনজু বিজয় চৌধুরী
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬ বিকাল ০৫:৫৫:৩১
জ্বালানি সংকট দীর্ঘায়িত হলে বড় লোকসানের আশঙ্কা চা শিল্পে
জ্বালানি তেলের সংকট দীর্ঘায়িত হলে দেশের অন্যতম প্রধান অর্থকরী খাত চা শিল্প বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে দেশের ‘চায়ের রাজধানী’খ্যাত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ইতোমধ্যে উৎপাদন কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে দেশে কয়েক দিন ধরে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে চা-বাগানসমৃদ্ধ এ অঞ্চলেও। ফলে বাগানমালিক ও সংশ্লিষ্টরা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগে তেলের সংকট থাকলেও তা তীব্র ছিল না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে জেলার অধিকাংশ পেট্রলপাম্পে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাম্পমালিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—গাড়ির বৈধ কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে তেল বিক্রি না করতে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন অনেকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কিছু পাম্পে সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি হলেও বেশির ভাগ পাম্পেই তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও ২০০ টাকা, কোথাও ৩০০ টাকার নির্ধারিত সীমায় তেল দেওয়া হচ্ছে। তেল সরবরাহ এলেই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শেষ হয়ে যাচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেলচালকেরা।
একটি পেট্রলপাম্পের ম্যানেজার নিশিকান্ত দাশ জানান, ডিপো থেকে দুই-তিন দিন পরপর তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, অথচ চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। এ পরিস্থিতি জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
চা-বাগান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তেলের সংকটের কারণে চা-পাতা সংগ্রহ ও পরিবহনে সমস্যা হচ্ছে। মৌলভী চা বাগানের ম্যানেজার মোহাম্মদ আলী বলেন, “মৌসুমের শুরুতেই যদি তেলের সংকট থাকে, তাহলে চা উৎপাদন ব্যাহত হবে। বাগান থেকে পাতা সংগ্রহ করে কারখানায় নিতে জ্বালানি অত্যাবশ্যক।”
বাংলাদেশীয় চা সংসদ (বিসিএস) সিলেট অঞ্চলের চেয়ারম্যান ও ফিনলে চা ভাড়াউড়া ডিভিশনের জিএম গোলাম মোহাম্মদ শিবলী বলেন, চা উৎপাদনের জন্য বিদ্যুৎ ও ডিজেল দুটিই অপরিহার্য। বর্তমানে তেলের সংকটে উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, “পেট্রলপাম্প মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়েছে। পাম্পগুলোতে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তদারকি জোরদার করা হয়েছে।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে চা শিল্পে বড় ধরনের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।