রুহুল আমিন কিবরিয়া, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৬ বিকাল ০৫:৫৭:৫২
হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার নির্দেশ, রানির হাটে স্টল বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, তাঁদের অনেকেই বংশপরম্পরায় ওই বাজারে ব্যবসা করে আসছেন। দীর্ঘদিনের ব্যবসার ভিত্তিতে স্টল পাওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও তাঁদের বাদ দিয়ে নতুন ও বহিরাগত ব্যক্তিদের বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে পুরোনো ব্যবসায়ীদের জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
একাধিক ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর অভিযোগ, নতুন করে দোকান বরাদ্দ দেওয়ার জন্য তহশিলদার তাঁদের কাছে ২০ হাজার টাকা করে দাবি করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে সাত থেকে আটজন ওই পরিমাণ টাকা দিয়েছেন বলেও দাবি করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তহশিলদারের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই হাটে ব্যবসা করছি। আমাদের বাপ-দাদারাও এখানে ব্যবসা করেছেন। এখন আমাদের কাছ থেকে দোকান কেড়ে নেওয়া হলে পরিবার নিয়ে বাঁচব কীভাবে? জীবিকা হারালে আমাদের সামনে আর কোনো পথ থাকবে না।’
ব্যবসায়ীদের দাবি, হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বাজারের বর্তমান অবস্থা বজায় রাখার কথা। তাঁদের ভাষ্য, আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা ছাড়া নতুন করে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হলে তা তাঁদের স্বার্থ ও চলমান মামলার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
আদালতের আদেশের মধ্যে বরাদ্দ কীভাবে?
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন এবং সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবসায়ীদের আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
তবে আদালতের আদেশে ঠিক কী বলা হয়েছে, স্থিতাবস্থার আওতা কতটুকু এবং স্টল বরাদ্দের ওপর এর সরাসরি প্রভাব কী—তা নিশ্চিত করতে আদেশের প্রত্যয়িত অনুলিপি ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা প্রয়োজন।
ইউএনও বললেন, আপাতত বরাদ্দ বন্ধ
এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইদুজ্জামান হিমু জানান, তিনি ও শেরপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মামুন রানির হাট বাজার পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। আগে জমা দেওয়া আবেদনের ভিত্তিতে স্টল বরাদ্দের কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল বলে তাঁকে জানানো হয়েছে।
ইউএনওর ভাষ্য, আদালতের স্থিতাবস্থার বিষয়টি তাঁরা তখন জানতেন না। পরে বিষয়টি জানার পর জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের সঙ্গে পরামর্শ করে আপাতত নতুন করে কোনো দোকান বরাদ্দ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আদালতের চূড়ান্ত আদেশ না আসা পর্যন্ত যাঁরা যেভাবে ব্যবসা করছেন, তাঁরা সেভাবেই ব্যবসা চালিয়ে যাবেন।
প্রশাসনের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন
আদালতে মামলা চলমান থাকা এবং স্থিতাবস্থার নির্দেশ থাকার দাবি ওঠার পরও কীভাবে স্টল বরাদ্দের কার্যক্রম পরিচালিত হলো—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা। সংশ্লিষ্ট আদালতের আদেশ ও ভূমি কার্যালয়ের নথি যাচাই না করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, তাঁদের বাদ দিয়ে নতুন ব্যক্তিদের স্টল বরাদ্দ দেওয়া হলে তাঁরা শুধু ব্যবসার জায়গাই হারাবেন না, হারাবেন বংশপরম্পরায় গড়ে ওঠা জীবিকার ভিত্তিও।
এখন প্রশ্ন—রানির হাট বাজারের স্টল বরাদ্দের ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশনা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং পুরোনো ব্যবসায়ীদের অধিকার যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়েছিল কি না? বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে আদালতের আদেশ ও প্রযোজ্য বিধি অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।