কাশিয়ানী (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬ রাত ০৬:১৪:২১
দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান, পৌরসভা হচ্ছে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথে এগোচ্ছে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীবাসী। ঐতিহ্যবাহী কাশিয়ানীকে পৌরসভায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। প্রস্তাবিত পৌর এলাকার সীমানা নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হলে পৌরসভা গঠনের কার্যক্রম আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯০৮ সালে কাশিয়ানী থানা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ঐতিহ্যবাহী এ জনপদ একসময় ব্যবসা-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। দীর্ঘদিন ধরে কাশিয়ানীকে পৌরসভায় উন্নীত করার দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিভিন্ন সময়ে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানা জটিলতায় তা বাস্তবায়িত হয়নি।
২০০০ সালে পার্শ্ববর্তী মুকসুদপুর উপজেলা পৌরসভায় উন্নীত হওয়ার পর কাশিয়ানীকে পৌরসভা করার দাবি আরও জোরালো হয়। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হলে নাগরিক সেবার পরিধি বাড়ার পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। একই সঙ্গে পরিকল্পিত নগরায়ণের মাধ্যমে এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
সম্প্রতি গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিম কাশিয়ানীকে পৌরসভায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়ায় বিষয়টি নতুন করে গতি পেয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে কাশিয়ানীকে পৌরসভায় রূপান্তর করা ছিল তার অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। দায়িত্ব গ্রহণের পর এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আশাবাদ ও সন্তোষ দেখা দিয়েছে।
এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বরাশুর গ্রামের বাসিন্দা মো. ইরামুজ্জামান মোল্লা বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকেই কাশিয়ানীর একটি স্বতন্ত্র ঐতিহ্য রয়েছে। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় প্রয়োজনীয় উন্নয়নের অভাবে এলাকাটি পিছিয়ে পড়েছে। পৌরসভা হলে এলাকার মানুষের জীবনমান ও সুযোগ-সুবিধা বহুগুণ বাড়বে। আমরা চাই, দ্রুত এ প্রক্রিয়া শেষ করা হোক।
কাশিয়ানী উপজেলা মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইরিন জামান ইরা বলেন, কাশিয়ানী একটি ঐতিহ্যবাহী ও পুরোনো এলাকা হওয়া সত্ত্বেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে এতদিন পৌরসভা হতে পারেনি। বর্তমান সংসদ সদস্য এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়ায় আমরা অত্যন্ত আশাবাদী।
একই বিষয়ে কাশিয়ানী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা মোল্লা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নবঞ্চিত কাশিয়ানীবাসী এ উদ্যোগকে সানন্দে স্বাগত জানাচ্ছে। সংসদ সদস্য তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়ায় আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে এ প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
কাশিয়ানীকে পৌরসভায় উন্নীত করার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীন মিয়া জানান, জেলা প্রশাসনের নির্দেশে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহসহ আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “ঐতিহ্যবাহী এ জনপদ পৌরসভায় উন্নীত হলে এলাকার মানুষের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বাড়বে। পাশাপাশি সরকারের উন্নয়নমূলক সেবা ও কার্যক্রমের পরিধিও অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে।”
গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিম বলেন, “কাশিয়ানীকে পৌরসভায় উন্নীত করা কেবল একটি দাবি নয়, এটি এখন সময়ের প্রয়োজন। কাশিয়ানীবাসীর কাছে দেওয়া আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন এটি। পৌরসভা গঠিত হলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পরিকল্পিত নগরায়ণ, সড়ক যোগাযোগ ও আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”
তিনি বলেন, এলাকার সার্বিক উন্নয়নে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সরকারি বরাদ্দ সংগ্রহের চেষ্টা চালানো হবে। সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সহযোগিতায় একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ কাশিয়ানী গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। প্রশাসনিক সব ধাপ দ্রুত অতিক্রম করে আনুষ্ঠানিকভাবে পৌরসভা ঘোষণার মাধ্যমে তাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ হব , এমনটাই এখন প্রত্যাশা কাশিয়ানীর সর্বস্তরের মানুষের।