নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ জুন ২০২৬ দুপুর ১২:৫০:২৩
মারা গেছেন সেই শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘কাইল্লা পলাশ’
রাজধানীর রামপুরায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার এক সপ্তাহ পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে ‘কাইল্লা’ পলাশ।
১৯ জুন শুক্রবার রাত ১টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পলাশের মরদেহের ময়নাতদন্তসহ পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১২ জুন দুপুরে রামপুরার বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ভবনের বিপরীতে নিজ বাসার কাছেই একদল সন্ত্রাসী পলাশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে দুই দিন চিকিৎসার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত রোববার রাতে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর থেকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
এই হামলার ঘটনার পর পলাশের স্ত্রী মাহমুদা খানম বাদী হয়ে হাতিরঝিল থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেছিলেন। পলাশের মৃত্যুর পর এটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। দায়ের করা ওই মামলায় জিসান আহমেদ মন্টিকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন—বাদশা ওরফে গুজা বাদশা, গলদা বাদশা, শান্ত ওরফে পিচ্চি শান্ত, সোলাইমান খন্দকার, ফারুক ওরফে চাচা ফারুক, হেবেল, মোল্লা জনি, ফিরোজ মোহাম্মদ মোল্লা, পিচ্চি আলামিন ওরফে তোতলা আলামিন ও সজীব। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও সাত থেকে আটজনকে আসামি করা হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা পলাশকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই গুলি চালিয়েছিল।
হত্যাকাণ্ডের পর জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের একজন হলেন ইমাম হোসেন, যিনি হামলার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের চালক ছিলেন। পরে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ফেরদৌস নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
হাতিরঝিল থানা-পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে কাইল্লা পলাশ রাজধানীর একজন তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একটি হত্যা মামলাসহ অন্তত সাতটি মামলা রয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে আন্ডারওয়ার্ল্ডের আধিপত্য বিস্তার নাকি পুরোনো কোনো শত্রুতা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।