নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬ রাত ০৬:৫৭:৩৪
মালয়েশিয়া জুড়ে ড্রোন ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা ইমিগ্রেশন বিভাগের
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম) দেশজুড়ে নজরদারি ও আইন প্রয়োগকারী অভিযান আরও কার্যকর করতে প্রতিটি রাজ্যে পৃথক ড্রোন ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা করছে।
শুক্রবার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, এ পরিকল্পনার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে বর্তমানে প্রতিটি রাজ্যের ইমিগ্রেশন বিভাগের এনফোর্সমেন্ট শাখায় প্রশিক্ষিত ড্রোন অপারেটর প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারি কার্যক্রম শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ২০২১ সালে ছোট আকারের কয়েকটি ড্রোন সংগ্রহের মাধ্যমে ইমিগ্রেশন বিভাগে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে ক্রমবর্ধমান আইন প্রয়োগকারী অভিযানের প্রয়োজন বিবেচনায় আরও ড্রোন সরঞ্জাম যুক্ত করা হয়।
জাকারিয়া বলেন, বর্তমানে দেশের সব ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট শাখা বিভিন্ন অভিযান ও অভিযানে ড্রোন ব্যবহার করছে। এই প্রযুক্তি ইমিগ্রেশন বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে অভিযান চলাকালে আকাশপথে নজরদারি করা, কর্মকর্তাদের ঝুঁকি কমানো এবং পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা বা লুকিয়ে থাকা সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা সহজ হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, অভিযানের স্থান ও প্রয়োজনীয়তার ওপর নির্ভর করে প্রায় সব ধরনের ইমিগ্রেশন অভিযানে ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে।
এদিকে মালয়েশিয়ার পেনাং রাজ্যের বান্দার তাসেক মুতিয়ারা এলাকায় একটি নির্মাণ সাইটে মেগা অভিযান পরিচালনা করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএমপি)।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা অংশ নেন। অভিযানটি পরিচালনা করে পেনাং রাজ্য ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএমপিপি)।
অভিযানে সহযোগিতা করে কেদাহ রাজ্য ইমিগ্রেশন বিভাগ, পেনাং জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ (জেপিএন), পেনাং শ্রম বিভাগ (জেটিকে) এবং সেবেরাং পেরাই সিটি কাউন্সিল (এমবিএসপি)।
অভিযানে পেনাং রাজ্য ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক শামসুল ফিত্রি বিন আহমাদ, উপ-পরিচালক (ব্যবস্থাপনা) সাঞ্জিথারান আল ম্যাথাভান, উপ-সরকারি কৌঁসুলি ইয়াপ তসু শেং, এনফোর্সমেন্ট বিভাগের প্রধান আহমাদ ফিত্রি বিন আহমাদ রাবুদি এবং অপারেশন ইউনিটের প্রধান ইজহাম বিন ইদ্রিসসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্মাণ সাইটে কর্মরত বিদেশি নাগরিক ও নিয়োগকর্তাদের বৈধ কাগজপত্র যাচাই করা এবং ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট ১৯৫৯/৬৩, ইমিগ্রেশন রুলস ১৯৬৩সহ সংশ্লিষ্ট আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করা।
অভিযানে আইন ভঙ্গকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জেআইএমপি। তবে এ অভিযানে কতজন অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে তা জানানো হয়নি।
পেনাং ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসী (পিএটিআই) নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়োগকর্তাদের দেশের আইন মেনে চলা নিশ্চিত করতে এ ধরনের সমন্বিত অভিযান ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে আইন প্রয়োগ কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে এবং জননিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।