বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে জাপানের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে কিছুটা হতাশ হয়েছিল নেদারল্যান্ডস। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে ছিল সুইডেন। তবে শনিবার (২০ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে গ্রুপ ‘এফ’-এর ম্যাচে সেই সুইডেনকেই ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে নেদারল্যান্ডস।এই জয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থানে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার পাশাপাশি বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা ১৪ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়েছে নেদারল্যান্ডস। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের মূল আসরে ১০০ গোলের মাইলফলকও স্পর্শ করেছে দলটি।এদিন আগের ম্যাচের একাদশে পরিবর্তন এনে ক্রিসেনসিও সামারভিলের জায়গায় ব্রায়ান ব্রোবিকে মূল স্ট্রাইকার হিসেবে খেলান ডাচ কোচ রোনাল্ড কোম্যান। কোচের আস্থার প্রতিদান দিতে ব্রোবি সময় নেন মাত্র ৫ মিনিট। কোডি গাকপোর ক্রস থেকে ট্যাপ-ইনে বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।১৭ মিনিটে আবারও গোল করে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন সান্ডারল্যান্ডের এই ফরোয়ার্ড। বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের শততম গোলটিও আসে তার পা থেকে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে সুইডেনের গুস্তাফ নেদারল্যান্ডসের জালে বল জড়ালেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। ফলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ডাচরা।দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করে সুইডেন। তবে পাল্টা আক্রমণে তাদের রক্ষণ ভেঙে আরও দুই গোল আদায় করে নেয় নেদারল্যান্ডস। ৪৭তম মিনিটে কোডি গাকপো গোল করে ব্যবধান ৩-০ করেন। সাত মিনিট পর আবারও জালে বল পাঠিয়ে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন লিভারপুলের এই ফরোয়ার্ড।৫৯ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় অ্যান্থনি ইলাঙ্গার গোলে ব্যবধান কমায় সুইডেন। এরপর বেশ কয়েকটি আক্রমণ করলেও ডাচ গোলরক্ষক বার্ট ভারব্রুগেনকে আর পরাস্ত করতে পারেনি তারা। ম্যাচে মোট সাতটি সেভ করেন তিনি।ম্যাচের ৮৯ মিনিটে মেমফিস ডিপাইয়ের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় গোল করেন ক্রিসেনসিও সামারভিল। তাতেই ৫-১ গোলের বড় জয় নিশ্চিত হয় নেদারল্যান্ডসের।এখন দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘এফ’ গ্রুপের শীর্ষে রয়েছে নেদারল্যান্ডস। ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে সুইডেন। এক ম্যাচে ১ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে জাপান এবং কোনো পয়েন্ট না পাওয়া তিউনিসিয়া রয়েছে তলানিতে।
২১ জুন ২০২৬ দুপুর ১২:৩৭:০৪
বিশ্বকাপ: একযুগ পর নকআউট পর্বে জার্মানি
২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলে দুর্দান্ত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলো জার্মানি। কিন্তু এরপর ঘটলো ছন্দপতন। ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে কি দুঃসময় অপেক্ষা করছিল জার্মানদের সামনে! ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি যে জার্মানি বারাবরই বিশ্বকাপ শুরু করে হট ফেভারিট হিসেবে। তারাই পরবর্তী দুই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের বাধা পেতে পারেনি। ২০১৮ ও ২০২২ দুইবারই জার্মানদের বিদায় নিতে হয়েছে নকআউট ম্যাচের আগে। অথচ ২০১৮ সালের আগে কখনোই তারা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয়নি।আগের পাঁচ বিশ্বকাপে জার্মানির কোচ ছিলেন জোয়াকিম লো।এবার প্রথমবার বিশ্বকাপে কোচ হিসেবে অভিষেক নাগালসম্যান।হার্ভাটজ,মুসিয়ালদের মত প্রতিভাবানদের নিয়ে তৈরী দল নিকট অতীতের দুঃসহ স্রৃতি মুছে ফেলতে চায়। সেই লক্ষ্যের শুরুটা দারুন ভাবে করেছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।প্রথম ম্যাচে কুরাসাওকে সাত গোলে বিধ্বস্ত করেছিল জার্মানি। শনিবার দ্বিতীয় ম্যাচে আইভরি কোস্ট প্রথমে লিড নিয়ে ভয় পাইয়ে দিয়েছিল। তবে আগের দুই বিশ্বকাপের মতো ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটতে দেয়নি জার্মানরা। ডেনিজ উনদাভের জোড়া গোলের দারুন প্রত্যাবর্তনে ২-১ ব্যবধানের জয়ের হাসি আসে নাগালসম্যানের দল।টানা দুই ম্যাচ থেকে পূর্ণ ছয় পয়েন্ট। আর তাতেই জয়ে ১২ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল জুলিয়ান নাগেলসম্যানের শিষ্যরা।শেষবার নকআউট পড়বে যাওয়া জার্মানরা চ্যাম্পিয়ন হয়েই আসর শেষ করেছিল। এবারও নিশ্চয়ই তেমন কিছুরই প্রত্যাশা থাকবে বিশ্বজুড়ে কোটি জার্মান ভক্তের।
মাঠে নামার আগেই ধাক্কা খেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। চোটের কারণে দলের সবচেয়ে বড় তারকা ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচকে থাকতে পারবেন না একাদশে ।সেই শূন্যতা অবশ্য বিশ্বকাপের সহ আয়োজকদের মাঠে ভোগায়নি।ঘরের মাঠ সিয়াটলে দুর্দান্ত জয় পেয়েছে তারা। অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে পরের রাউন্ডও নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মেক্সিকোর পর দ্বিতীয় দল হিসেবে নকআউট নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।এই জয়ে বিশ্বকাপে পরপর দুটি ম্যাচ জয়ের কীর্তিও গড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৩০ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে পরপর দুই ম্যাচ জিতল মরিসিও পচেত্তিনোর দল। ‘ডি’ গ্রুপে অবশ্য শীর্ষস্থান এখনো নিশ্চিত হয়নি তাদের। তুরস্ক–প্যারাগুয়ে ম্যাচ ড্র হলেই এই গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের।প্যারাগুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৪–১ গোলের জয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে যুক্তরাষ্ট্র।দ্রুত আক্রমণের ফলও তারা পায়। ফোলারিন বালোগানের বাড়ানো পাস নিজেদের জালে পাঠিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার ক্যামেরন বার্গেস।প্রথমার্ধে আধিপত্য ধরে রাখা পচেত্তিনোর দল দ্বিতীয় গোলটি পায় বিরতির ঠিক আগে।সতীর্থের ফ্রি-কিক বক্সের বাইরে পেয়ে শট নেন সের্জিনো দেস্ত। অস্ট্রেলিয়ার এক খেলোয়াড়ের পায়ে লেগে বল উঠে যায় ওপরে। ছুটে গিয়ে হেডে কাছ থেকে জালে পাঠান অ্যালেক্স ফ্রিম্যান।পচেত্তিনোর অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের এই দাপুটে শুরু নকআউট পর্বে তাদের নিয়ে প্রত্যাশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ‘ডি’ গ্রুপে ২ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে যুক্তরাষ্ট্র। সমান ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে অস্ট্রেলিয়া। একটি করে ম্যাচ খেলা তুরস্ক ও প্যারাগুয়ে এখনো পয়েন্ট পায়নি। এই গ্রুপে আরও তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
২০ জুন ২০২৬ সকাল ১১:০৬:০১
হাইতিকে হারিয়ে গ্রুপ শীর্ষ ব্রাজিল
মরক্কোর বিপক্ষে কষ্টার্জিত ড্রয়ের পর তীব্র সমালোচনার শিকার হয়েছিল ব্রাজিল। আজ ফিলাডেলফিয়াতে হাইতির বিপক্ষে সেই সমালোচকদের মুখ যেন বন্ধ করে দিলো সেলেসাওরা। ম্যাথিউস কুনহার জোড়া গোলে প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় তারা। দ্বিতীয়ার্ধে কয়েকটি সুযোগ নষ্ট এবং অফসাইডে গোল বাতিলের কারণে ব্যবধান বাড়েনি। হাইতিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে উঠে গেল তারা।দুই ম্যাচ শেষে মরক্কোর সমান ৪ পয়েন্ট পেলেও গোলব্যবধানে (+৩) এগিয়ে থেকে সবার উপরে ব্রাজিল। স্কটল্যাান্ডকে আগের ম্যাচে ১-০ গোলে হারানোর পর মরক্কো (+১) শীর্ষে উঠলেও ব্রাজিলের জয়ে নেমে গেছে দুই নম্বরে। হাইতিকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা স্কটিশরা ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে, শেষ ম্যাচে তারা খেলবে আনচেলত্তির দলের বিপক্ষে।রেফারির ম্যাচের শেষ বাঁশি। ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামের ব্রাজিল সমর্থকদের উল্লাস। ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রথম জয়। এতে স্বস্তি মিললেও গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার হিসাব নিকাশে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলার সুযোগ নেই। ব্রাজিল প্রথমার্ধে ৩-০ গোলে এগিয়ে ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে আরও কয়েকটি গোলের প্রত্যাশা ছিল ব্রাজিল সমর্থকদের। এই অর্ধে ব্রাজিলের একটি গোল বাতিল হলেও হাইতি যথেষ্ট দাপট দেখিয়েছে। ব্রাজিলের গোলরক্ষক কমপক্ষে ২-৩ টি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়েছেন। একটি গোললাইন সেভও হয়েছে। হাইতি ব্রাজিলের তুলনায় সব সূচকে পিছিয়ে। এরপরও হাইতির খেলা আজ প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলের ডিফেন্স একাধিকবার ভাঙন ধরাতে পেরেছে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলটি। যা ব্রাজিলের কোচ আনচেলত্তির জন্য অত্যন্ত ভাবনার। টানা দুই ম্যাচ হেরে হাইতি টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের পথে এরপরও ব্রাজিলের বিপক্ষে খানিকটা লড়াকু পারফরম্যান্স হাইতির বড় প্রাপ্তি। ব্রাজিল হাইতির জালে পাঁচ বার বল পাঠালেও বৈধ গোলের সংখ্যা তিনটি। দুই অর্ধে একটি করে গোল বাতিল হয় ব্রাজিলের। আরেকটি আক্রমণ পোস্টে লেগে ফেরত আসে। ২৩ মিনিটে ব্রাজিলের হয়ে গোলের সুচনা করেন কুনহা। গুইমারেসের পাস থেকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শট হাইতির গোলরক্ষক পুরোপুরি ঠেকাতে পারেননি। ফিরতি বলে কুনহা গোল করেন। ১৩ মিনিট পর পাল্টা আক্রমণে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র কুনহার উদ্দেশ্যে বাড়ান নিখুঁত এক পাস। গোল করতে ভুল হয়নি। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে গোলদাতা ভিনিসিয়ুস নিজেই। পাকেতা হাইতি রক্ষণভাগের মাথার ওপর দিয়ে তার উদ্দেশ্যে বল বাড়ান। দ্রুতগতিতে বক্সে প্রবেশ করে প্লেসিংয়ে গোল করেন।
২০ জুন ২০২৬ সকাল ১০:৫০:২৫
বিশ্বকাপ: বসনিয়া ঝড়ে উড়ে গেলো সুইজারল্যান্ড
বিশ্বকাপের নিজেদের প্রথম ম্যাচে অপেক্ষাকৃত দুর্বল কাতারের সঙ্গে ড্র করে হোঁচট খেয়েছিল সুইজারল্যান্ড। তবে দ্বিতীয় ম্যাচেই চেনা ছন্দে ফিরেছে তারা।বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনাকে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সুইসরা। বদলি হিসেবে নেমে জোড়া গোল করে সুইজারল্যান্ডের এই বড় জয়ের মূল নায়ক ফ্রাইবুর্গের স্ট্রাইকার জোহান মানজাম্বি।দলের হয়ে বাকি দুটি গোল করেন রুবেন ভারগাস এবং অধিনায়ক গ্রানিত জাকা। অন্যদিকে বসনিয়ার পক্ষে একমাত্র সান্ত্বনাসূচক গোলটি করেন মাহমিচ।শুরু থেকেই মাঠের লড়াইয়ে বসনিয়ার চেয়ে বেশ এগিয়ে ছিল তুলনামূলক শক্তিশালী সুইজারল্যান্ড। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষকে খুব একটা সুযোগ দেয়নি তারা।বসনিয়ার অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার এডিন জেকোর এই ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপে অভিষেক হলেও সুইস ডিফেন্ডারদের কড়া পাহারায় প্রতিপক্ষ শিবিরে কোনো বড় ধরনের আতঙ্ক ছড়াতে পারেননি তিনি।প্রথমার্ধে সুইজারল্যান্ডের আক্রমণে একাকী লড়াই করছিলেন রেনের ফরাসি ফরোয়ার্ড ব্রেল এমবোলো। তিনি কিছু ভালো আক্রমণ করলেও বসনিয়ার গোলরক্ষক ভাসিলকে পরাস্ত করতে পারছিলেন না। তবে দ্বিতীয়ার্ধে কোচ ৯ নম্বর জার্সিধারী মানজাম্বিকে মাঠে নামানোর পরই দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে যায় এবং ম্যাচের গতি ফিরে আসে।মাঠে নেমেই জোড়া গোল করার পাশাপাশি রুবেন ভারগাসের চমৎকার গোলটিতেও সরাসরি অবদান রাখেন মানজাম্বি। তার অন্তর্ভুক্তিতে সুইসদের আক্রমণভাগ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এরপর একটি বিতর্কিত পেনাল্টি থেকে গোল করে দলের বড় জয় নিশ্চিত করেন গ্রানিত জাকা।ম্যাচে চার গোল হজম করলেও বসনিয়ার পক্ষে মাহমিচের করা একমাত্র গোলটি ছিল দেখার মতো। কর্নার থেকে ফিরে আসা ফিরতি বল ধরে ২৬ নম্বর জার্সি পরা এই খেলোয়াড় এক দুর্দান্ত ও চোখ ধাঁধানো শটে সুইজারল্যান্ডের জাল কাঁপান।এই বড় জয়ের পর চার পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকাপের গ্রুপ 'বি'-এর টেবিলের শীর্ষে উঠে এলো সুইজারল্যান্ড। এই গ্রুপের অপর ম্যাচে আজ ভোর ৪টায় মুখোমুখি হবে কানাডা ও কাতার।
১৯ জুন ২০২৬ বিকাল ০৩:০৯:৫৭
বিশ্বকাপ: নক-আউট পর্বে মেক্সিকো
দুর্ভাগ্যজনকভাবে পিছিয়ে পড়ার পর প্রাণপণ চেষ্টা করেও জালের দেখা পেল না দক্ষিণ কোরিয়া। জমাট রক্ষণ আর গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসরে প্রথম দল হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিল সহ-আয়োজক মেক্সিকো।মেক্সিকোর গুয়াদালাহার স্টেডিয়ামে ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকালে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়েছে স্বাগতিকরা।ম্যাচের ৫০তম মিনিটে সতীর্থ লি গি-হিউকের সঙ্গে সংঘর্ষে বল হারিয়ে ফেলেন গোলরক্ষক কিম সেউং-গিউ। ফাঁকা জালে বল ঠেলে দলকে এগিয়ে নেন মিডফিল্ডার লুইস রোমো।দক্ষিণ কোরিয়ার সেরা সুযোগ আসে ম্যাচের ৮৭তম মিনিটে—চো গুয়ে-সুংয়ের হেড কাছ থেকে বিপদমুক্ত করেন রাউল র্যাঙ্গেল। এরপর ইয়াং হিউন-জুনের শটও রুখে দেন মেক্সিকো গোলরক্ষক।এর আগে অধিনায়ক সন হিউং-মিনের শট গোললাইন থেকে ফিরিয়ে মেক্সিকোকে রক্ষা করেন এডসন আলভারেজ, যদিও এসময় অফসাইড ছিলেন সন।প্রথমার্ধে নিষ্প্রভ খেলার কারণে দর্শকদের দুয়ো শোনার পর দ্বিতীয়ার্ধে মেক্সিকো আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। ৭৫তম মিনিটে রাউল হিমেনেজের শট গোলরক্ষক ঠেকান। বদলি খেলোয়াড় ওবেদ ভার্গাসও শেষ দিকে কিমকে চমৎকার এক ডাইভিং সেভে বাধ্য করেন।এই জয়ে বিশ্বকাপে মেক্সিকোর জয়যাত্রা অব্যাহত থাকল। হাভিয়ের আগুইরের দল প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারায় ২-০ গোলে।২ ম্যাচে দ্বিতীয় জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে চূড়ায় আছে উত্তর আমেরিকার দেশটি। ২ ম্যাচে এক জয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে দক্ষিণ কোরিয়া।বৃহস্পতিবার তারা চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে হার এড়াতে পারলেই গ্রুপ ‘এ’-এর শীর্ষস্থান নিশ্চিত করবে। শীর্ষে থাকলে মেক্সিকো সিটি হবে তাদের শেষ-৩২ ও সম্ভাব্য শেষ-১৬ ম্যাচের ভেন্যু, যেখানে তারা ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হতে পারে, যদি টমাস টুখেলের দল নিজেদের গ্রুপ ও প্রথম নকআউট ম্যাচ জেতে।পরাজয়ের পরও ভালো অবস্থানে আছে দক্ষিণ কোরিয়া, কারণ একই দিন চেক প্রজাতন্ত্র ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচটি ১-১ ড্র হয়। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে এশিয়ার দলটির প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা।
১৯ জুন ২০২৬ সকাল ১১:৩৩:০১
কানাডার গোলের বন্যায় কোনঠাসা কাতার
বিশ্বকাপে কাতারকে রীতিমতো গোলের বন্যায় ভাসিয়ে কোনঠাসা করেছে বর্তমান আয়োজক কানাডা। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে কাতারকে ৬-০ গোলে হারিয়েছে তারা। দলের হয়ে হ্যাটট্রিক করেছেন জোনাথন ডেভিড। এছাড়া স্কোর শিটে নাম লিখিয়েছেন লারিন ও সালিবা। একটি গোল হয় আত্মঘাতী।ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে কানাডা। এর ফলও পেয়ে যায় দ্রুত। কাতারের গোলরক্ষক মাহমুদ আবুনাদা জোনাথন ডেভিডের জোরালো শট ঠেকালেও বল নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। ফিরতি বলে সহজেই জাল খুঁজে নেন কানাডার স্ট্রাইকার সাইল লারিন। প্রথম ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষেও গোল করেছিলেন তিনি।২৯ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন জোনাথন ডেভিড। এরপরই আরও বিপদে পড়ে কাতার। কানাডিয়ান ফরোয়ার্ড তেজন বুকানানকে বক্সের কাছাকাছি জায়গায় ফাউল করেন হোমাম আহমেদ। প্রথমে পেনাল্টির বাঁশি বাজালেও ভিএআর পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত বদলে ফ্রি-কিক দেন রেফারি। তবে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ ছাড়ান হোমামকে। ফলে ম্যাচের আধঘণ্টা পেরোতেই ১০ জনের দলে পরিণত হয় কাতার।এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে বিরতির আগেই আরও একবার আঘাত হানে কানাডা। নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন জোনাথন ডেভিড। প্রথমার্ধ শেষে বড় লিড নিয়েই ড্রেসিংরুমে ফেরে স্বাগতিকরা।ইসমাইলের ইনজুরিতে ভেঙে পড়েন সতীর্থরা।দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের সবচেয়ে উদ্বেগজনক মুহূর্তটি আসে ৫৩তম মিনিটে। কাতারের আসিম মাদিবুর ভয়ংকর ট্যাকলের শিকার হন কানাডার মিডফিল্ডার ইসমাইল কোনে। যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকা কোনেকে ঘিরে ধরেন সতীর্থরা এবং দ্রুত মাঠে প্রবেশ করে মেডিকেল টিম। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তার গোড়ালিতে গুরুতর চোট লেগেছে।ঘটনার পর সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয় মাদিবুকে। ফলে কাতারকে ম্যাচের বাকি সময় ৯ জন নিয়ে খেলতে হয়। স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়ার সময় কানাডার সমর্থকেরা কোনের নাম ধরে স্লোগান দিতে থাকেন। সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ‘থাম্বস আপ’ দেখান এই মিডফিল্ডার।দুই খেলোয়াড় কমে যাওয়ার পর কাতার কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে। সেই সুযোগে গোলের বন্যা বইয়ে দেয় কানাডা। দ্বিতীয়ার্ধে আরও তিনবার কাতারের জালে বল পাঠায় স্বাগতিকরা। জোনাথন ডেভিড নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে ম্যাচের নায়ক বনে যান। পাশাপাশি গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিনি সমতায় চলে আসেন লিওনেল মেসির সঙ্গে।শেষ পর্যন্ত ৬-০ গোলের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কানাডা। এই জয়ে গ্রুপের শীর্ষে উঠে এসেছে তারা এবং নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয়ার পথও প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছে।
১৯ জুন ২০২৬ সকাল ১১:২৭:২৭
পানামার বিরুদ্ধে ঘানার রোমাঞ্চকর জয়
ম্যাচের ৬৩ শতাংশ সময় বল নিজেদের কাছে রেখেও পানামা জিততে পারেনি। রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে ঘানা। ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা হলো ছয় মিনিট। সেটিরই শেষ মিনিটের খেলা চলছিল। পাল্টা আক্রমণে ঝড়ের বেগে নিজেদের অর্ধ থেকে দ্রুত বল নিয়ে এগিয়ে গেল ঘানা। বাঁ প্রান্ত দিয়ে মার্কারকে ছিটকে বল নিয়ে বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়লে ব্র্যান্ডন থমাস-আসান্তে এবং সামনের ডিফেন্ডারের পাশ দিয়ে বল বাড়িয়ে লেন মাঝখানে। ছুটে এসে স্রেফ ‘ট্যাপ ইন’ করলেন ক্যালেব ইয়েরেনকি। বৃষ্টিস্নাত টরন্টোয় বুনো উল্লাসে মেতে উঠল ঘানার ফুটবলার ও সমর্থকেরা। বিশ্বকাপ ফুটবলের ‘এল’ গ্রুপের ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হলো ৯৫তম মিনিটে। পানামার বিশ্বকাপ প্রত্যাবর্তন বিষাদময় করে ঘানা জিতে গেল শেষের ওই গোলে।পানামার জন্য এই ফলাফল মেনে নেওয়া কঠিনই। ম্যাচের ৬৩ শতাংশ সময় বল ছিল তাদের কাছে। গোলে শট নিয়েছে তারা ১১টি, লক্ষ্যে ছিল ৪টি। অন্যান্য সূচকেও তারা এগিয়ে। কিন্তু গোলের খেলায় আসল কাজটি করে নেয় ঘানা।গোলের পর মাঠে দুই দলের মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়ে যায় এবং খানিকটা হাতাহাতিও হয়। তাতে ম্যাচের বয়স ১০০ মিনিট পেরিয়ে যায়। শেষ দিকে বক্সের বাইরে ডান প্রান্তে ফ্রি কিক পায় পানামা। দলের সবাই উঠে আসে সামনে, এমনকি গোলকিপার অরলান্দো মুসকেরাও চলে আসেন ঘানার বক্সে। লাফিয়ে হেড করে বল সামনে বাড়ান মুসকেরা, আবার হেড করেন ইসমায়েল দিয়াস। কিন্তু কোনোরকমে বল ধরে ফেলেন ঘানার গোলকিপার বেঞ্জামিন আসারে।আসারে অবশ্য দলের প্রথম পছন্দের গোলকিপার নন। ম্যাচের শুরু থেকে গোলবারে ছিলেন লরেন্স আটি-জিগি। প্রথমার্ধে দলের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন তিনিই। কিন্তু শেষ দিকে চোট পেয়ে চিকিৎসা নেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে আর মাঠে নামতে পারেননি।ঘানার শক্তির ঘাটতি ছিল আরও। ভিসা জটিলতায় দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারেননি দলের তারকা মিডফিল্ডার তমাস পার্তে। পরের ম্যাচগুলিতে অবশ্য তাকে পাওয়া যাবে।ঘানার এটি টানা দ্বিতীয় ও ছয় আসরের মধ্যে পঞ্চম বিশ্বকাপ। ২০১০ বিশ্বকাপে চমকে দিয়েছিল তারা কোয়ার্টার-ফাইনালে জায়গা করে নিয়ে। পানামা আগে বিশ্ব আসরে খেলেছিল কেবল ২০১৮ আসরে।টরন্টো স্টেডিয়ামে পানামা এগিয়ে যেতে পারত খেলা শুরুর দুই মিনিটের মধ্যে। আমির মুরিয়োর নান্দনিক পাসে বক্সের ভেতর থেকে সেসিলিও ওদারমানের শট দারুণভাবে উড়ে গিয়ে রক্ষা করেন ঘানার গোলকিপার আটি-জিগি।ঘানা পরে একটু গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও পানি পানের রিতির পর আবার তাদেরকে চেপে ধরে পানামা। কিন্তু গোল বের করতে পারেনি।৩৮তম মিনিটে একটি সুযোগের মতো পেয়েছিল পানামা। আটি-জিগি লাফিয়ে উঠে একটি ক্রস ক্লিয়ার করেন। বল জিওভানি রামোসের কাছে গেলে ১৪ গজ দূর থেকে ডান পায়ের শটে তিনি ডানদিকে বাইরে পাঠিয়ে দেন।বক্সের মধ্যে ক্রিস্তিয়ান মার্তিনেস পড়ে গেলে পেনাল্টির দাবি জানায় পানামা, কিন্তু জেরোম ওপোকুর স্পর্শের অভিযোগ রেফারিকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি।গোল না পেলেও সব মিলিয়ে প্রথমার্ধে পানামাই ছিল এগিয়ে। ঘানা পারেনি গোলে একটি শটও নিতে। এবারের বিশ্বকাপে এই অভিজ্ঞতা হয়নি আগে কোনো দলের।ঘানা প্রথম সুযোগ পায় ৪৮তম মিনিটে। জোনাস আজেতির হেড ধরে ফেলেন পানামার গোলকিপার মুসকেরা। ৬০তম মিনিটে পানামা প্রায় গোল করেই ফেলেছিল। কিন্তু গোলের খুব কাছে বল পেলেও সংকীর্ণ কোণ থেকে সাইড-নেটে মেরে দেন মার্তিনেস। ঘানা এরপর বেশ কিছু আক্রমণ করে। কিন্তু খুব ভালো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। পানামাও পাল্টা আক্রমণে জবাব দেয়। শেষ পর্যন্ত ব্যবধান গড়ে দেয় শেষের ওই গোল।দুই দলই বিশ্বকাপে এসেছিল এই ম্যাচে জয়কে লক্ষ্য বানিয়ে। গ্রুপের অন্য দুই প্রতিপক্ষ যে খুবই কঠিন! ম্যাচের ফলাফলের বিপরীতমুখি প্রতিক্রিয়াও তাই তীব্র।
১৮ জুন ২০২৬ সকাল ০৯:৪৭:৪১
ব্যাটিং বিপর্যয়ে অস্ট্রেলিয়াকে মামুলি টার্গেট দিল বাংলাদেশ
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের উচ্ছ্বাস কয়েকদিনও টেকেনি। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে নেমে এলো স্রেফ দুর্দশা। টস জিতে আগে ব্যাটিং করতে নেমে একশ রানের আগেই ৮ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পড়ে যায় টাইগাররা। শেষ দিকে শেখ মেহেদী হাসানের ঝড়ো ২৯ রানের ইনিংসে ১৯ ওভারে ১৩১ রানে অলআউট হয় টাইগাররা।এদিন ইনিংসের শুরুটা ছিল একেবারেই হতাশাজনক। তানজিদ হাসান তামিম মাত্র ৯ বলে ১০ রান করে স্পেন্সার জনসনের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। এরপর সাইফ হাসান কিছুটা আক্রমণাত্মক খেললেও ১৪ বলে ২০ রান করে ম্যাট রেনশের অফ স্পিনে আউট হয়ে যান। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় ক্রিজে এসেই একটি ছক্কা হাঁকিয়ে আশা জাগিয়েছিলেন। কিন্তু অ্যাডাম জাম্পার গুগলিতে বোকা বনে মাত্র ৫ বলে ৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন। সৌম্য সরকারও ১৮ বলে ১৭ রানের বেশি টিকতে পারেননি। পারভেজ হোসেন ইমনও ১২ বলে ১০ রান করে আউট হন।মাঝে অভিষিক্ত আব্দুল গাফফার সাইকলাইনসহ বাকি ব্যাটাররা খুব বেশি প্রতিরোধ গড়তে পারেননি। শেষ পর্যন্ত শেখ মেহেদীর লড়াইয়ে দল ১৩১ রানে আলআউট হয় টাইগাররা।
ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়াকে ওয়ানডে সিরিজে হারিয়ে ফুরফুরে মেজাজে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তারা এবার নেমেছে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের মিশনে। আর তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক হয়েছে তাওহীদ হৃদয়ের। চট্টগ্রামে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশের ১৩তম টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক।ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে চোট পেয়েছিলেন টি-টোয়েন্টির নিয়মিত অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। তার টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলা নিয়ে ছিল অনিশ্চয়তা। অবশেষে সেই শঙ্কাই সত্যি হলো। প্রথম ম্যাচের একাদশে নেই এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার।এদিকে বাংলাদেশের হয়ে আজ অভিষেক হতে যাচ্ছে ডানহাতি পেসার আবদুল গাফফার সাকলাইনের। ২০০৫ সালে প্রথমবার অজিদের বিপক্ষে ওয়ানডেতে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর কেটে গেছে দুই দশকের বেশি সময়। এবার শুধু জয় নয়, সদ্য শেষ হওয়ার ওয়ানডে সিরিজটাই নিজেদের করে নিয়েছে টাইগাররা। টানা দুই ম্যাচ জিতে আগে-ভাগেই সিরিজ জিতে নেয় বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে সান্তনার জয় পায় সফরকারীরা। এবার টাইগারদের চোখ টি-টোয়েন্টি সিরিজে।
১৭ জুন ২০২৬ দুপুর ০২:৩৭:৩১
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই রেকর্ড মেসির
২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পর লিওনেল মেসি কেন বুটজড়ো তুলে রাখেননি? এমন প্রশ্ন যারা করেছিলেন- তার উত্তর প্রথম ম্যাচেই দিয়ে দিলেন কিংবদন্তি।আলজেরিয়াকে উড়িয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। হ্যাটট্রিক করেছেন মেসি। বিশ্বকাপজয়ী মহানায়ক স্পর্শ করেছেন কয়েকটি মাইলফলক, গড়েছেন অনেকগুলো রেকর্ড।কনসাস সিটি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বুধবার সকালে ‘জে’ গ্রুপের ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা। তিনটি গোলই মেসির।ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলেতে নামেন মেসি। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ও কুয়েতের বাদের আল-মুতাভার পর তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে ২০০ আন্তর্জাতিক ম্যাচের মাইলফলক স্পর্শ করলেন এই ম্যাচ দিয়ে।এমন দিনে বিশ্বকাপের ইতিহাসে মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বোচ্চ গোলের (১৬টি) রেকর্ড স্পর্শ করেছেন ৩৯ ছুঁই ছুঁই ক্ষুদে জাদুকর। আর এক গোল করলেই এককভাবে রেকর্ডটা নিজের করে নিবেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।সবচেয়ে কম বয়সী (২০০৬) এবং সবচেয়ে বেশি বয়সী (২০২৬) খেলোয়াড় হিসেবে আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপে গোল করার রেকর্ডও এখন মেসির। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার গোল বেড়ে হয়েছে ১২০টি।ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই জালে বল পাঠিয়েছিলেন মেসি। কিন্তু অফসাইডের কারণে উদযাপন করতে পারেননি।উৎসবের জন্য খুব বেশি সময় নেননি রেকর্ড আটবারের বর্ষসেরা। ম্যাচের ১৭তম মিনিটে মাঝমাঠ থেকে রদ্রিগো দে পলের পাস পেয়ে ২৫ গজ দূর থেকে করেন চোখধাঁধানো প্রথম গোল।ব্রাজিলের কিংবদন্তি রিভেলিনোর রেকর্ডেও ভাগ বসিয়েছেন এই গোল দিয়ে। বিশ্বকাপে ডি বক্সের বাইরে থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ গোল এই দুজনের। এই রেকর্ডটাও নিজের করে নেওয়ার সুযোগ মেসির সামনে।একই সঙ্গে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর ছাড়া পাঁচটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করা দ্বিতীয় ফুটবলার হলেন মেসি।বিশ্বকাপে ২৭তম ম্যাচে মেসি নিজের দ্বিতীয় গোলটি পান ৬০তম মিনিটে। আর ৭৬তম মিনিটে আরেকটি দুর্দান্ত গোলে আদায় করে নেন বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক।সেই সঙ্গে রোনালদোর আরও একটি রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন মেসি- বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়সে হ্যাটট্রিক। সব মিলিয়ে ‘বুড়ো’ মেসির বার্তাটাও যেন স্পষ্ট। কাতারে স্বপ্নপূরণ হলেও ক্ষুধাটা আছে আগের মতোই।
১৭ জুন ২০২৬ দুপুর ১২:০৯:২৯
এমবাপ্পের রেকর্ডে বিশ্বকাপে ফ্রান্সের রাজসিক শুরু
বিদ্যুৎ গতি আর ক্ষীপ্রতায় রেকর্ড ভেঙ্গে সবচেয়ে কম বয়সে ফাইনালে গোল করার রেকর্ড করেছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জেতা ও ২০২২ সালের ফাইনালে হ্যাটট্রিকসহ আসর জমিয়েছিলেন এমবাপ্পে। এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে এমবাপ্পে শুরুটা করেছেন দু্দান্ত। তার জোড়া গোলে সেনেগালকে হারিয়ে বিশ্বকাপে রাজসিক শুরু করেছে ফ্রান্স।নিউইয়র্কের নিউজার্সিতে আই গ্রুপের ম্যাচে শেষ পর্যন্ত সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে ফরাসিরা। ফ্রান্সের হয়ে জোড়া গোল করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাতে ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা বনে গেছেন এমবাপ্পে। ফরাসিদের অন্য গোলটি ব্র্যাডলি বারকোলার। অন্যদিকে সেনেগালের হয়ে একটি গোল শোধ দিয়েছেন ইব্রাহিম এমবায়ে। এদিন ম্যাচের প্রথমার্ধেক কেমন যেন নিষ্প্রভ ছিল ফ্রান্স। সেনেগাল একের পর এক আক্রমণের বিপরীতে তেমন কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি ২০১৮ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের শুরু থেকে ফ্রান্স-সেনেগাল সমানতালে খেলতে থাকে। তবে ফ্রান্সের চেয়ে বেশি সুযোগ তৈরি করেছে সেনেগাল। ম্যাচের ২৫ মিনিটে নিকোলাস জ্যাকসনের শট পোস্টে লেগে প্রতিহত হওয়ায় অল্পের জন্য গোল বঞ্চিত হয় সেনেগাল। তারকা ঠাঁসা দল নিয়ে ভালো খেলতে পারেনি ফ্রান্স। তাদের চেয়ে সেনেগাল বরং বেশি উজ্জ্বল ছিল। গোলের একাধিক সুযোগও পেয়েছিল তারা। কিন্তু পোস্টের বাধা এবং ফিনিশিংয়ের ব্যর্থতায় প্রথমার্ধে গোল পায়নি আফ্রিকান দেশটি।তবে দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ায় ফ্রান্স। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে এমবাপ্পের গোলে এগিয়ে যায় দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। মাইকেল ওলিসের অ্যাসিস্টে দারুণ ফিনিশিংয়ে গোলটি করেছেন ফ্রান্স অধিনায়ক। ম্যাচের ৮২ মিনিটে ফ্রান্সের লিড দ্বিগুণ করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। আদ্রিয়াঁ রাবিওর লম্বা করে বাড়ানো থ্রু পাস ধরে ঠান্ডা মাথায় গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান এই পিএসজি তারকা।যোগ করা সময়ে এমবায়ে একটি গোল ফেরত দিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তোলার আভাস দিয়েছিল। তবে শেষ বাঁশি বাজার আগ মুহূর্তে নিজের দ্বিতীয় ও ফ্রান্সের তৃতীয় গোলটি করেন এমবাপ্পে। বিশ্বকাপে এটি এমবাপ্পের ১৪তম গোল। এছাড়া জাতীয় দলের জার্সিতে ৫৮ গোল হয়ে গেল ফরাসি তারকার। ফ্রান্সের হয়ে এখন এমবাপ্পেই সর্বোচ্চ গোলের মালিক।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই আর্জেন্টিনার শুরুটাই ছিলো মেসিময়। মেসির জাদুকরী হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়াকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে বিশ্বকাপে প্রথম জয় ছিনিলে নিলো আর্জেন্টিনা দল। নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক ও যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পাশাপাশি মেসি কয়েকটি রেকর্ড গড়েছেন।২০ বছর আগে একই দিনে (স্থানীয় সময় অনুযায়ী ১৬ জুন) আর্জেন্টিনার জার্সিতে সার্বিয়া অ্যান্ড মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে বিশ্বকাপে অভিষেক হয়েছিল মেসির। যেখানে তিনি বদলি নেমে দলটির সর্বকনিষ্ঠ (১৮ বছর ৩৫৮ দিন) ফুটবলার হিসেবে গোল করার রেকর্ড গড়েন। এবার সবচেয়ে বেশি বয়সী (৩৮ বছর ৩৫৭ দিন) হিসেবেও গোলের কীর্তি হলো মেসির নামে।আর্জেন্টাইন মহতারকার ৩৯ বছর বয়স পূর্ণ হতে আর এক সপ্তাহ বাকি। তার আগেই তিনি বিশ্বকাপের প্রথম হ্যাটট্রিকটা পেলেন। এটি বিশ্বকাপে তার সর্বোচ্চ ২৭তম এবং আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ২০০তম ম্যাচ। এর আগে আলজেরিয়ার বিপক্ষে একাদশে যুক্ত হতেই তিনি বিশ্বের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে গড়েন ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলার কীর্তি। যদিও চলতি আসরে আরও দুজনের সেই রেকর্ড গড়ার সুযোগ আছে।আর্জেন্টিনাকে ১৭ মিনিটে এগিয়ে দেওয়ার পর তাদের অবশিষ্ট দুই গোলও এলো অধিনায়কের পা থেকে। ৬০ ও ৭৬ মিনিটে করা দুই গোলে জাদুকরী পারফরম্যান্স পূর্ণতা পায় মেসির। দ্বিতীয় গোলে ভুলে খেসারত দিয়েছেন জিনেদিন জিদানপুত্র লুকা জিদান। আলজেরিয়ান এই গোলরক্ষক অ্যালেক্সিস ম্যাক-অ্যালিস্টারের জোরালো শট থামাতে পারেননি। উল্টো বল ছুটে চলে যায় সামনে থাকা মেসির পায়ে, তিনি আলতো ছোঁয়ায় তা জালে জড়ান।অবশ্য বাকি দুটি গোল মেসি করেছেন চিরাচরিত বাঁ পায়ের মোহনীয় শটে। ১৬ মিনিটের মাথায় প্রথম গোলটি করেন মাঝমাঠ থেকে রদ্রিগো ডি পলের বাড়ানো বল ধরে ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া বাঁকানো শটে। লুকা জিদান দু‘হাত বাড়িয়ে সেটি স্পর্শ করলেও ঠেকাতে পারেননি। আর হ্যাটট্রিক পূর্ণ করা দ্বিতীয় গোলও এসেছে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া মাটি কামড়ানো শটে।এ নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ১২০ এবং বিশ্বকাপের ১৬তম গোল পেলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এতদিন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ ১৬ গোল নিয়ে রাজত্ব করছিলেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসা। সেই রেকর্ডে ভাগ বসালেন মেসি। তাকে ছাড়িয়ে একক রাজত্ব কায়েমে হতেও হয়তো কিছু সময়ের অপেক্ষা! এ ছাড়া ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৩৮ বছর ৩৫৭ দিন বয়সে হ্যাটট্রিক করলেন মেসি।এদিকে, ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে পজেশনে বেশ এগিয়ে ছিল আলজেরিয়া। যা ম্যাচ শেষেও তাদের এগিয়ে (৫২ শতাংশ) রাখে। তবে গোলের লক্ষ্যে মাত্র একটি শট রাখতে পারে দলটির স্কোরলাইন পুরোপুরি বিপরীত। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার গোলের লক্ষ্যে ছিল ৬টি শট। আলজেরিয়া মেসিকে কড়া মার্কিং করতে পারেনি, উল্টো দ্বিতীয় গোল হজম করে গোলরক্ষক লুকা জিদানের ভুলে।
১৭ জুন ২০২৬ সকাল ১০:০৪:০৫
আইসিসি বিশ্বকাপ: নানা চাপেও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ইরানের ড্র
সকালে এসে সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে– এমন ধরাবাঁধা নিয়ম ছিল প্রথমে। পরবর্তিত নিয়মে ম্যাচের একদিন আগে মেক্সিকো থেকে দেশটিতে গিয়ে খেলার সুযোগ পায় ইরান। এ ছাড়া ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা তো ছিল-ই। এমন রাজনৈতিক চাপের মুখে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ইরান। যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি দু‘বার পিছিয়ে পড়েও নিজেদের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে।বিশ্বকাপ প্রতিটি দল ও ফুটবলারদের জন্য যে উন্মাদনা-উচ্ছ্বাস নিয়ে আসে, ইরান সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছিলেন অধিনায়ক মেহদি তারেমি। তাদের সেই অনুভূতিই নাকি কাজ করছে না। কারণটা অনুমান করা কঠিন নয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটির বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ও পুরো চক্রই অস্থিরতার মধ্যে ছিল।অথচ ইরানের প্রতিটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তাদের ম্যাচগুলো মেক্সিকোয় সরিয়ে নেওয়ার দাবি থাকলেও মানেনি ফিফা। তবুও শেষ পর্যন্ত ইরান বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে টুর্নামেন্ট চলাকালে ইরান তাদের অনুশীলন ঘাঁটি অ্যারিজোনা থেকে সরিয়ে মেক্সিকোর তিজুয়ানায় নিয়ে যায়। প্রতিটি ম্যাচের আগের দিন তারা যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাচ্ছে এবং দ্রুত আবার মেক্সিকোয় ফিরে যাচ্ছে। এমন অস্থিরতার মাঝে তারা নামলো বিশ্বকাপে। লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের হয়ে এলিজাহ জাস্ট প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দুটি গোল করেন। তবে ইরান দুইবারই ঘুরে দাঁড়িয়ে সমতা ফেরায় এবং নিউজিল্যান্ডকে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম জয়ের অপেক্ষাতেই রেখেছে। তবে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ইরানের চেয়ে ৬৫ ধাপ পিছিয়ে থাকা নিউজিল্যান্ড এই ম্যাচে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। ২০১০ সালের পর এবারই তারা বিশ্বকাপে ফিরল। উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশে সপ্তম মিনিটেই চমকে দেয় নিউজিল্যান্ড। অধিনায়ক ক্রিস উড ইরানের গোলরক্ষককে কাটিয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জাস্টকে বল বাড়ান। তিনি প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের ভিড়ের মাঝে দারুণ ভলিতে করেন গোলটি। এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরে ইরান। ৩২তম মিনিটে রেজাইয়ান বুটের বাইরের অংশ দিয়ে চমৎকার চিপ শটে গোল করে সমতা ফেরান।৫৪তম মিনিটে উডের সহায়তায় আবারও গোল করেন জাস্ট। এবারও জাস্ট ভিড়ের মাঝে নেওয়া শটে গোল করেছেন। নিউজিল্যান্ডের লিড টিকল স্রেফ ১২ মিনিট। ইরানকে এবার সমতায় ফেরান মোহেবি। রেজাইয়ানের নিখুঁত লম্বা পাস পেয়ে হেডে তিনি গোল করেন। এরপর দুই দল আরও কয়েকটি গোলের সুযোগ তৈরি করলেও কেউ আর সফলতা পায়নি।শেষ বাঁশি বাজার পর দুই দলের খেলোয়াড়রা একে অপরকে আলিঙ্গন ও করমর্দন করেন। অন্তত একজন খেলোয়াড়ের জার্সি বদলের ঘটনাও ঘটে। ইরানের কোচ আমির ঘালেনোয়ি ডাগআউটে একা বসে থাকলেও তার খেলোয়াড়রা একসঙ্গে মাঠে ঘুরে বেড়ান এবং পতাকা হাতে উল্লাসিত হাজারও সমর্থককে অভিনন্দন জানান তারা।
১৬ জুন ২০২৬ সকাল ১১:০৫:০৭
তিউনিশিয়াকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে জয় ছিনিয়ে নিলো সুইডেন
বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এফ’-এ দারুণ জয় দিয়ে অভিযান শুরু করেছে সুইডেন। মেক্সিকোর মনতেরে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে তিউনিশিয়াকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দেয় সুইডিশরা। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে তারা। সপ্তম মিনিটে দূরপাল্লার শটে দলকে এগিয়ে দেন ইয়াসিন আয়ারি, তবে তিউনিশীয় বংশোদ্ভূত হওয়ায় গোলের পর কোনো উদযাপন করেননি তিনি। ভিক্টর ইয়োকেরেসের বাড়ানো বল পেয়ে শট নেন আলেকজান্দার ইসাক। তিউনিশিয়ার গোলরক্ষকের ব্যর্থতায় বলটি জালে প্রবেশ করে। ৩০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আলেকজান্দার ইসাক। তবে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে তিউনিশিয়া। ৪৫ মিনিটে হেডের মাধ্যমে গোল করে ব্যবধান কমান ওমর রেকিক। বিরতিতে স্কোরলাইন থাকে ২-১। দ্বিতীয়ার্ধে আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় সুইডেন। ৫৯ মিনিটে তিউনিশিয়ার অধিনায়ক ইলযাস সিকিরির ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন ইয়োকেরেস। এরপর ৮৪ মিনিটে বদলি নেমেই গোল করেন মাটিয়াস সভানবার্গ। প্রথমে অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হলেও ভিএআর পর্যালোচনার পর গোলের স্বীকৃতি দেন রেফারি।অতিরিক্ত সময়ে আবারও নিজের জাত চেনান ইয়াসিন আয়ারি। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া চমৎকার শটে তিনি নিজের দ্বিতীয় গোল করার পাশাপাশি দলের পঞ্চম গোল নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে ভিক্টর ইয়োকেরেস ম্যাচ শেষ করেন একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট নিয়ে, আর আলেকজান্দার ইসাক থাকেন এক গোল ও দুটি অ্যাসিস্টের নায়ক। তাদের দুর্দান্ত সমন্বিত আক্রমণে পুরো ম্যাচে চাপে ছিল তিউনিশিয়ার রক্ষণ। এই জয়ে গ্রুপ ‘এফ’-এর শীর্ষে জায়গা করে নেয় সুইডেন।