নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ জুন ২০২৬ সকাল ০৯:৪৭:৪১
পানামার বিরুদ্ধে ঘানার রোমাঞ্চকর জয়
ম্যাচের ৬৩ শতাংশ সময় বল নিজেদের কাছে রেখেও পানামা জিততে পারেনি। রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে ঘানা। ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা হলো ছয় মিনিট। সেটিরই শেষ মিনিটের খেলা চলছিল। পাল্টা আক্রমণে ঝড়ের বেগে নিজেদের অর্ধ থেকে দ্রুত বল নিয়ে এগিয়ে গেল ঘানা। বাঁ প্রান্ত দিয়ে মার্কারকে ছিটকে বল নিয়ে বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়লে ব্র্যান্ডন থমাস-আসান্তে এবং সামনের ডিফেন্ডারের পাশ দিয়ে বল বাড়িয়ে লেন মাঝখানে।
ছুটে এসে স্রেফ ‘ট্যাপ ইন’ করলেন ক্যালেব ইয়েরেনকি। বৃষ্টিস্নাত টরন্টোয় বুনো উল্লাসে মেতে উঠল ঘানার ফুটবলার ও সমর্থকেরা। বিশ্বকাপ ফুটবলের ‘এল’ গ্রুপের ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হলো ৯৫তম মিনিটে। পানামার বিশ্বকাপ প্রত্যাবর্তন বিষাদময় করে ঘানা জিতে গেল শেষের ওই গোলে।
পানামার জন্য এই ফলাফল মেনে নেওয়া কঠিনই। ম্যাচের ৬৩ শতাংশ সময় বল ছিল তাদের কাছে। গোলে শট নিয়েছে তারা ১১টি, লক্ষ্যে ছিল ৪টি। অন্যান্য সূচকেও তারা এগিয়ে। কিন্তু গোলের খেলায় আসল কাজটি করে নেয় ঘানা।
গোলের পর মাঠে দুই দলের মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়ে যায় এবং খানিকটা হাতাহাতিও হয়। তাতে ম্যাচের বয়স ১০০ মিনিট পেরিয়ে যায়। শেষ দিকে বক্সের বাইরে ডান প্রান্তে ফ্রি কিক পায় পানামা। দলের সবাই উঠে আসে সামনে, এমনকি গোলকিপার অরলান্দো মুসকেরাও চলে আসেন ঘানার বক্সে। লাফিয়ে হেড করে বল সামনে বাড়ান মুসকেরা, আবার হেড করেন ইসমায়েল দিয়াস। কিন্তু কোনোরকমে বল ধরে ফেলেন ঘানার গোলকিপার বেঞ্জামিন আসারে।
আসারে অবশ্য দলের প্রথম পছন্দের গোলকিপার নন। ম্যাচের শুরু থেকে গোলবারে ছিলেন লরেন্স আটি-জিগি। প্রথমার্ধে দলের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন তিনিই। কিন্তু শেষ দিকে চোট পেয়ে চিকিৎসা নেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে আর মাঠে নামতে পারেননি।
ঘানার শক্তির ঘাটতি ছিল আরও। ভিসা জটিলতায় দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারেননি দলের তারকা মিডফিল্ডার তমাস পার্তে। পরের ম্যাচগুলিতে অবশ্য তাকে পাওয়া যাবে।
ঘানার এটি টানা দ্বিতীয় ও ছয় আসরের মধ্যে পঞ্চম বিশ্বকাপ। ২০১০ বিশ্বকাপে চমকে দিয়েছিল তারা কোয়ার্টার-ফাইনালে জায়গা করে নিয়ে। পানামা আগে বিশ্ব আসরে খেলেছিল কেবল ২০১৮ আসরে।
টরন্টো স্টেডিয়ামে পানামা এগিয়ে যেতে পারত খেলা শুরুর দুই মিনিটের মধ্যে। আমির মুরিয়োর নান্দনিক পাসে বক্সের ভেতর থেকে সেসিলিও ওদারমানের শট দারুণভাবে উড়ে গিয়ে রক্ষা করেন ঘানার গোলকিপার আটি-জিগি।
ঘানা পরে একটু গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও পানি পানের রিতির পর আবার তাদেরকে চেপে ধরে পানামা। কিন্তু গোল বের করতে পারেনি।
৩৮তম মিনিটে একটি সুযোগের মতো পেয়েছিল পানামা। আটি-জিগি লাফিয়ে উঠে একটি ক্রস ক্লিয়ার করেন। বল জিওভানি রামোসের কাছে গেলে ১৪ গজ দূর থেকে ডান পায়ের শটে তিনি ডানদিকে বাইরে পাঠিয়ে দেন।
বক্সের মধ্যে ক্রিস্তিয়ান মার্তিনেস পড়ে গেলে পেনাল্টির দাবি জানায় পানামা, কিন্তু জেরোম ওপোকুর স্পর্শের অভিযোগ রেফারিকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি।
গোল না পেলেও সব মিলিয়ে প্রথমার্ধে পানামাই ছিল এগিয়ে। ঘানা পারেনি গোলে একটি শটও নিতে। এবারের বিশ্বকাপে এই অভিজ্ঞতা হয়নি আগে কোনো দলের।
ঘানা প্রথম সুযোগ পায় ৪৮তম মিনিটে। জোনাস আজেতির হেড ধরে ফেলেন পানামার গোলকিপার মুসকেরা। ৬০তম মিনিটে পানামা প্রায় গোল করেই ফেলেছিল। কিন্তু গোলের খুব কাছে বল পেলেও সংকীর্ণ কোণ থেকে সাইড-নেটে মেরে দেন মার্তিনেস। ঘানা এরপর বেশ কিছু আক্রমণ করে। কিন্তু খুব ভালো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। পানামাও পাল্টা আক্রমণে জবাব দেয়। শেষ পর্যন্ত ব্যবধান গড়ে দেয় শেষের ওই গোল।
দুই দলই বিশ্বকাপে এসেছিল এই ম্যাচে জয়কে লক্ষ্য বানিয়ে। গ্রুপের অন্য দুই প্রতিপক্ষ যে খুবই কঠিন! ম্যাচের ফলাফলের বিপরীতমুখি প্রতিক্রিয়াও তাই তীব্র।