নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ০৯:৩০:৫১
বাধ্য হয়ে অবসরে যাচ্ছেন অ্যান্ডারসন
ল্যাঙ্কাশায়ারের সঙ্গে ২৬ বছরের সম্পর্ক শেষ হচ্ছে জেমস অ্যান্ডারসনের। আগামী মৌসুমের জন্য ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি পেসারের চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাউন্টি ক্লাবটি। তবে ৪৪ বছর বয়সী অ্যান্ডারসনের পেশাদার ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অন্য কোনো কাউন্টি বা বিদেশি দলের প্রস্তাব এলে তিনি খেলা চালিয়ে যেতে পারেন বলে জানা গেছে।
অ্যান্ডারসনের চুক্তি না বাড়ানোর সিদ্ধান্তে হতাশ সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক নাসের হুসেইন। তাঁর মতে, ল্যাঙ্কাশায়ারের সাম্প্রতিক সমস্যাগুলোর মধ্যে অ্যান্ডারসন কোনোভাবেই অন্যতম সমস্যা নন। বরং গত মৌসুমে ৫০ উইকেট নিয়েছেন তিনি, গড় ছিল মাত্র ১৭। চোটের কারণে কয়েকটি ম্যাচ মিস করলেও যখনই খেলেছেন, ভালো পারফরম্যান্স করেছেন।
হুসেইন বলেন, অ্যান্ডারসন এখনো ভালো বোলিং করছেন এবং তাঁর নিয়ন্ত্রণ, বলের গতিপথ বদলানোর দক্ষতা, ফিটনেস ও দীর্ঘ ক্যারিয়ার অসাধারণ। তাঁর মতে, ৪৪ বছর বয়স হলেও ইংল্যান্ডের প্রায় সব কাউন্টিই অ্যান্ডারসনকে দলে নিতে চাইবে। হুসেইনের ধারণা, ল্যাঙ্কাশায়ারের পুনর্গঠনের যাত্রায় অ্যান্ডারসনের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব বরং সম্পদ হিসেবে কাজে লাগানো যেত।
ল্যাঙ্কাশায়ারের নতুন ক্রিকেট পরিচালক পল ফারব্রেস অবশ্য ক্লাবকে নতুন পথে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। চলতি মৌসুমে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় বিভাগে দ্বিতীয়-সর্বশেষ স্থানে থেকে মৌসুম শেষ করেছে ল্যাঙ্কাশায়ার। সাদা বলের দুই প্রতিযোগিতাতেও দলটি গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি। আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নতুন খেলোয়াড় নেওয়া ও দল পুনর্গঠনের পরিকল্পনা করছে ক্লাবটি।
ইংল্যান্ডের হয়ে ২০০২ সালে অভিষেক হওয়া অ্যান্ডারসন ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন। টেস্টে ৭০৪ উইকেট নিয়ে তিনি ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি এবং টেস্ট ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে তাঁর প্রথম দলের অভিষেক হয়েছিল ২০০১ সালে। এখন পর্যন্ত প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তাঁর উইকেট ১ হাজার ১৯৩টি, আর সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ৪০০-এর বেশি।
অ্যান্ডারসনকে নিয়ে অবসরের গুঞ্জন থাকলেও নাসের হুসেইন তাঁর বিদায়ের সম্ভাবনার চেয়ে বরং ২৬ বছরের অসাধারণ ক্যারিয়ারকে স্মরণ করতে চান। তাঁর মতে, ইংল্যান্ড ও ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে এত দীর্ঘ সময় ধরে অ্যান্ডারসনের অবদানই এখন সবচেয়ে বড় বিষয়।