নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২ অক্টোবর ২০২৬ রাত ০৮:০১:২২
গ্রেপ্তারের আগে ভিডিও বার্তায় যা বললেন জামায়াতনেতা আখতারুজ্জামান
সরকারি কাজে বাধা ও মারধরের মামলায় রাজধানীতে ক্যান্টনমেন্টের নিজ বাসা থেকে জামায়াতনেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করেন তিনি।
ভিডিও বার্তায় জামায়াতনেতা আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমাকে এই মুহূর্তে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাচ্ছে। আমি শুধু জানিয়ে গেলাম আপনাদের। দোয়া করবেন, আমি যেন জনগণের জন্য, দেশের মানুষের জন্য বিশেষ করে প্রবাসীদের জন্য যদি শহীদ হতে পারি। আল্লাহ যেন আমার সেই দাবি কবুল করেন।’
আখতারুজ্জামান আরও বলেন, ‘জনগণের অধিকারের সংগ্রামে আমি আছি, থাকব। যতদিন বেঁচে আছি, ততদিন জনগণের পাশেই থাকব। জনগণের জন্য এ জীবন ত্যাগ করব।’
এর আগে, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে আসামি করে বিমানবন্দর থানায় মামলাটি করেন হযরত শাহজালার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট বিমানবন্দরে অবতরণের পর বিপুল যাত্রীর চাপ সৃষ্টি হয়। এ সময় ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলি-সংকট দেখা দেয় এবং যাত্রীদের লাগেজ পেতে বিলম্ব হয়। এতে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে ডেকে আনেন। তিনি এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে এ সময় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তার প্রতি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন এবং তাকে গালাগাল করেন। একপর্যায়ে আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমি কিন্তু পিটাব ধইরা’ এবং ‘ঘাড় ধরে বের করে দেব’। এ সময় তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রীকে নিয়েও অশালীন মন্তব্য করেন।
এজাহার থেকে আরও জানা যায়, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের প্রটোকল সহকারীরা বিমানবন্দরের সংরক্ষিত (কেপিআই) এলাকায় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। তখন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাদেরকে ভিডিও ধারণে নিষেধ করেন। এতে আখতারুজ্জামান ক্ষিপ্ত হন এবং তাকে গালাগাল ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ সময় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান অন্য যাত্রীদের জমজমের পানির বোতল ট্রলি থেকে ফেলে ক্ষতিসাধন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আসামির এসব কর্মকাণ্ডে স্পর্শকাতর ও সংরক্ষিত বিমানবন্দর এলাকায় সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি হয়। এতে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।