স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকাল ০৫:৪৭:২৪
সমন্বয়ের মাধ্যমে ঢাকার উন্নয়নকাজ করার সিদ্ধান্ত, ১৫ দিন পরপর হবে সভা
ঢাকা শহর ও আশপাশের এলাকার উন্নয়নকাজ সমন্বিতভাবে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এজন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, কর্তৃপক্ষ ও সংস্থাকে নিয়ে প্রতি ১৫ দিন পরপর সমন্বয় সভা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, একটি সংস্থা কাজ করার পর একই জায়গায় আরেকটি সংস্থা যেন আবার খোঁড়াখুঁড়ি না করে, সে জন্য চলমান উন্নয়নকাজগুলো সমন্বয় করা হচ্ছে। এতে সরকারের ব্যয় ও সময় কমার পাশাপাশি নগরবাসীর ভোগান্তিও কমবে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে ঢাকা শহরের মেগা প্রজেক্টের কারণে উদ্ভূত যানজট রোধ সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকায় এমআরটি, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, ডেসকোসহ বিভিন্ন সংস্থার বড় বড় উন্নয়নকাজ চলছে। এসব কাজ যাতে সুসমন্বিতভাবে হয়, সেজন্যই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডিটিসিএর নেতৃত্বেও সমন্বয় সভা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আজকের সভায় সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ ও ক্ষেত্রবিশেষে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তা পর্যায়েও প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বয় সভা হবে। এজন্য ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
'আমরা আবার ১৫ দিন পরে বসব, যাতে বাস্তবায়নের অগ্রগতিটা আমরা দেখতে পারি', বলেন তিনি।
এক সংস্থা এক সময়ে এবং অন্য সংস্থা অন্য সময়ে কাজ করলেও রাস্তার ওপর বাস্তবে কাজ করার সময় যেন সমন্বয় করা যায়, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, কোনো বিদ্যুৎ সংস্থা একটি রাস্তা খুঁড়ে কাজ করে সেটি মেরামত করে চলে গেল। পরে গ্যাস বিভাগ এসে একই জায়গা খুঁড়ল। এ ধরনের পরিস্থিতি বন্ধ করতে একই সময়ে করা সম্ভব এমন কাজগুলো সমন্বয়ের মাধ্যমে করার চেষ্টা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এমআরটি নির্মাণের ক্ষেত্রে সড়কের পাশে বেশ কিছু ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ করতে হচ্ছে। সেগুলো সুন্দরভাবে করা হচ্ছে। এসব কাজের সঙ্গে পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগেরও সমন্বয় করতে হচ্ছে, কারণ সড়কের যান চলাচল ট্রাফিক বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে ট্রাফিক ব্যবস্থা উন্নত করা হচ্ছে। এতে নগরবাসী স্বস্তি পাচ্ছে এবং যান চলাচল একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আসছে।
উন্নয়নকাজও এমনভাবে করতে হবে যাতে ট্রাফিক হ্যাজার্ড তৈরি না হয় জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের ব্যয় ও সময় কমানো, জনদুর্ভোগ কমানো এবং মানুষকে স্বস্তি দেওয়াই এসব উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের জন্য একই সড়ক বারবার খোঁড়ার পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মধ্যে সব লাইন রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজন অনুযায়ী সব বিষয় ইনভেন্টরি করবেন। এটাই সমন্বয়ের অংশ।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে ১০ থেকে ২০ বছরের জন্য প্রকল্প নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, রাতারাতি এর মধ্যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।
'আমরা শুরু করেছি, আশা করি একদিন আমরা এই সিস্টেমে যেতে পারবো। আমরা শুরু করেছি', বলেন তিনি।
ছোট ছোট সাব কমিটির মাধ্যমে সমন্বয়
সমন্বয়ের জন্য জাতীয় কোনো টিম বা কমিটি গঠন করা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রেলওয়ে, বিআরটিসি, সড়ক ও জনপথ, সেতু কর্তৃপক্ষ, ডিটিসিএ, ওয়াসা, ডেসকো, বিদ্যুৎ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ছোট ছোট সাব কমিটির মতো করে ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারা নিজেদের মধ্যে ফোনে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করতে পারবে। প্রতিটি উন্নয়নকাজ করার আগে এই সমন্বয় করার কথা।
'আগে এই সমন্বয়টা ছিল না বলে হয়তো রেলওয়ে একটা কাজ করে গেল, পরে রোড ডিভিশন আরেকটা কাজ একই জায়গায় করল। এই সমন্বয়টা আগে ছিল না', বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সমন্বয়ের জন্য অনেকগুলো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাসস্ট্যান্ডগুলো স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্তর্বর্তী সময়ের গ্যাপের মধ্যে বাসগুলো কোথায় থাকবে, সে সিদ্ধান্তও দেওয়া হয়েছে।
মহাখালী বাসস্ট্যান্ড ও ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড নিয়ে উন্নয়ন হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাসস্ট্যান্ডগুলো শহরের বাইরে নেওয়ার জন্য জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেগুলো অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন করা হবে।
তিনি বলেন, এসব পরিকল্পনা দৃশ্যমান হতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে পরিকল্পনা এখন চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
অটোরিকশাকে শৃঙ্খলায় আনার উদ্যোগ
রাজধানীতে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এগুলোকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিছুদিন আগে এ বিষয়ে একটি নীতিমালাও করা হয়েছে।
অবৈধ বিদ্যুৎ চার্জিং পয়েন্টের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গায় অবৈধভাবে নেওয়া চার্জিং সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। বেশ কিছু অবৈধ সংযোগ ইতোমধ্যে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
'আমরা চাই না ওভারনাইট অনেক মানুষ বেকার হয়ে যাক। সেজন্য একটা ডিসিপ্লিনে আনতে হচ্ছে। কেউ হয়তো মহানগর থেকে বাইরে যাবে, কেউ হয়তো অন্যান্য শহরে যাবে। কিন্তু আমরা অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগগুলো বিচ্ছিন্ন করব', বলেন তিনি।
মূল সড়কে অটোরিকশা চলাচল ও এর কারণে যানবাহনে ব্যাঘাত সৃষ্টি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ছোট থ্রি হুইলার মূল সড়কে চলার কথা নয়। আগে সিএনজি চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সেগুলোর সংখ্যা এখন কম এবং এগুলো অনেক আগের লাইসেন্স দেওয়া।
তিনি বলেন, 'এখন সবচেয়ে বেশি পীড়াদায়ক হচ্ছে ব্যাটারি চালিত রিকশাগুলো। এগুলো নিয়েই আমরা ডিসিপ্লিন করার চেষ্টা করছি।'
অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট বিচ্ছিন্ন করার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য নীতিমালা করা হয়েছে। সিটি করপোরেশন বিষয়টি দেখছে।