নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৪ এপ্রিল ২০২৬ দুপুর ০২:৪৫:৪১
তেলের কালোবাজারি রোধে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি: আইনমন্ত্রী
যারা মজুতদারি ও কালোবাজারির মাধ্যমে তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন, তাদের বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি নিজ দলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত থাকলেও তাকে সবার আগে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
৪ এপ্রিল শনিবার ঝিনাইদহের শৈলকুপায় এক খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ সব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, তেল সংকট কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হচ্ছে। এই সংকটটা তৈরি হচ্ছে এক শ্রেণির মানুষ অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করার জন্য। মোটরসাইকেল নিয়ে এসে, গাড়ি নিয়ে এসে একই দিনে দুই তিনবার তারা লাইন দিয়ে তেল নিয়ে গিয়ে বাসায় রেখে বোতলে ভর্তি করে ড্রামে ভর্তি করে রেখে আবার তেল নিতে আসছেন।
অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা এতদিন সফট লাইনে ছিলাম। আমরা বলেছি ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে কালোবাজারি এবং মজুতদারির বিরুদ্ধে সেকশন ২৫-এ যে শাস্তির বিধান করা হয়েছে প্রয়োজনবোধে সেই শাস্তি আমরা প্রয়োগ করব, তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। আমরা সেই কারণে প্রশাসনকে বলছি আপনারা কঠোর হন।
মন্ত্রী আরও বলেন, যদি বিএনপির কোনো নেতাকর্মী এর সঙ্গে জড়িত থাকে সবার আগে তাকে গ্রেপ্তার করবেন। যদি বিএনপির কোনো নেতাকর্মী এই অকাম করে তাকে কড়া করে কারাগারে নেন। যদি কেউ তার পক্ষে তদবির করতে আসে তাকেও গ্রেপ্তার করুন সহযোগী হিসেবে। আমরা যেকোনো মূল্যে কালোবাজারি এবং মজুতদারির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
গণভোট বাতিল হলে জুলাই সনদ বাতিল হবে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বলেন, ভাইয়েরা আমার, এখানেই প্রতারণার ফাঁদ। জুলাই সনদ থাকা না থাকার ওপরে গণভোটের ভোট বাতিল হওয়া না হওয়া নির্ভর করে না। জুলাই সনদ নিজেই স্বতন্ত্র, স্বকীয় এবং কার্যকরী।
আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করব সংবিধান সংশোধনের মধ্যদিয়ে। এখানে কোনো ইফস্ এন্ড বাটস নাই। সুতরাং যারা বলছেন গণভোট বাতিল হলে জুলাই সনদ বাতিল হবে, তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন।
মানবাধিকার কমিশন আইন, সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় আইন ও গুম কমিশন বাতিল হওয়ার গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, প্রিয় বন্ধুরা, এর কোনোটিই বাতিলের খাতায় নাই, এর সবগুলো হলো পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে আমরা আবার ফিরে আসবো নতুন বিল নিয়ে সেই কথা বলছি।
কৃষক ও সাধারণ মানুষের জন্য সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়ে যে কাজটি করেছেন সেটা হলো ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ১২ লক্ষ কৃষকের কৃষি ঋণ মকুফ করেছেন। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই নেক্সট বাজেটের মধ্যেই আমরা ব্যাপক হারে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া শুরু করব। ইতোমধ্যেই ৩৮ হাজার পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে শৈলকুপাসহ দেশের ১১টি স্থানে কৃষক কার্ড ইস্যু করা হবে।
বক্তব্যের শেষে তিনি চলতি মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শৈলকুপা সফরের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, এই মাসের মধ্যেই আমাদের বাংলাদেশের অহংকার, আমাদের বিএনপির অভিভাবক, জিয়া পরিবারের উত্তরসূরি, বাংলাদেশের আপামর জনতার প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান শৈলকুপা আসতে যাচ্ছেন। যেদিন শৈলকুপায় জনাব তারেক রহমান আসবেন ওই দিন আপনারা সবাই গোটা শৈলকুপার মানুষ তারেক রহমানকে অভ্যর্থনা জানাবেন।