মো আরিফ হোসেন চৌধুরী
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৬ বিকাল ০৫:৪৯:০৫
উত্তরায় শহীদ মনসুর আলী মেডিকেলে উত্তেজনা, ড্যাব নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের অভিযোগ
আদালতে বিচারাধীন গভর্নিং বডি-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির আগেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে অধ্যক্ষকে পদত্যাগের চাপ এবং নতুন গভর্নিং বডির দায়িত্ব গ্রহণের চেষ্টার অভিযোগে রাজধানীর উত্তরায় শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) নেতাকর্মীদের সঙ্গে হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীদের ধাক্কাধাক্কি ও মারামারির অভিযোগ উঠেছে। এতে একজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ১০/বি রোডের ২৬ ও ২৬/এ নম্বর প্লটে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটিতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এদিকে হাসপাতাল ‘দখলের চেষ্টা’র অভিযোগ তুলে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং চলমান বিরোধের আইনগত সমাধানের দাবি জানান।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুরে ড্যাবের ব্যানারে একদল নেতাকর্মী হাসপাতাল এলাকায় জড়ো হন। একপর্যায়ে নতুন গভর্নিং বডির দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে তাদের বাগ্বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি মারামারিতে রূপ নেয়। এ ঘটনায় একজন গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ-সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, একপর্যায়ে মূল ফটক ভেঙে ৭০ থেকে ৮০ জন ব্যক্তি জোরপূর্বক হাসপাতাল প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। পরে তারা কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ড্যাব বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে উত্তরা পশ্চিম থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে হাসপাতাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গভর্নিং বডি নিয়ে বিরোধ যখন আদালতে বিচারাধীন, তখন কোনো পক্ষের প্রভাব বিস্তার বা শক্তি প্রয়োগের চেষ্টা কাম্য নয়। এতে চিকিৎসাসেবা ও শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি জনমনে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হতে পারে।
আগেও অধ্যক্ষকে পদত্যাগের চাপের অভিযোগ
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এর আগে গত ৪ আগস্ট দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি চিঠির অনুলিপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, ওই চিঠিকে কেন্দ্র করে একদল তরুণ অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করে তাকে পদত্যাগের জন্য চাপ দেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কলেজ পরিদর্শক এ কে এম আমজাদ হোসেন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল প্র্যাকটিশনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মো. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাসকে গভর্নিং বডির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে বলা হয়, গভর্নিং বডি-সংক্রান্ত হাইকোর্ট বিভাগের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আপিল বিভাগে ‘লিভ টু আপিল’ দায়ের করে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নতুন করে গভর্নিং বডি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়।
তবে সংশ্লিষ্ট একটি পক্ষের দাবি, গভর্নিং বডির বৈধতা-সংক্রান্ত বিষয়টি এখনো আদালতে বিচারাধীন। আইনি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার আগেই নতুন গভর্নিং বডির দায়িত্ব গ্রহণের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ।
এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বুধবারের সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পর সেই উত্তেজনা প্রকাশ্যে আসে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিরোধের দ্রুত আইনগত ও প্রশাসনিক সমাধান না হলে মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম এবং হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।