নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬ সকাল ১০:৩৮:৩০
পাবনা প্রেসক্লাবে আড্ডায় মেতে উঠেছেন রাষ্ট্রপতি
স্মৃতিবিজড়িত প্রিয় প্রতিষ্ঠান পাবনা প্রেসক্লাবে সতীর্থদের সঙ্গে এক দীর্ঘ ও প্রাণবন্ত আড্ডায় মেতে উঠলেন রাষ্ট্রপতি ও ক্লাবের আজীবন সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সাহাবুদ্দিন।
রোববার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত প্রায় আড়াই ঘণ্টা তিনি সেখানে অবস্থান করেন। রাষ্ট্রপতির এই আগমনে প্রেসক্লাব চত্বরে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
আড্ডার বিশেষ আকর্ষণ ছিল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আসা তার স্কুলজীবনের চার বন্ধু ও রণাঙ্গনের সহযোদ্ধারা। হাসোজ্জ্বল মুখে প্রত্যেক সাংবাদিককে নাম ধরে ডেকে কুশল বিনিময় করেন রাষ্ট্রপতি। এ সময় তিনি তার সাংবাদিকতা জীবনের স্মৃতিচারণ করার পাশাপাশি পাবনা প্রেসক্লাবের দীর্ঘ ঐতিহ্য ও প্রয়াত সদস্যদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। নিজের রাজনৈতিক ও পেশাগত জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ বাঁকের কথা তুলে ধরেন তিনি। আড্ডায় রাষ্ট্রপতির বন্ধুদের স্মৃতিচারণে উঠে আসে শৈশবের টিফিন ভাগ করে খাওয়ার গল্প থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধের সেই ভয়াল দিনগুলোর কথা। আঁধার রাতে কাঁধে অস্ত্র নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের হেঁটে চলা আর যুদ্ধের ময়দানে অস্ত্রের ঝনঝনানির রোমাঞ্চকর সব গল্পে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন।
পাবনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ‘এসো মিলি প্রাণের টানে’ শীর্ষক এই আড্ডা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ছাড়াও বক্তব্য দেন পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও স্কয়ার গ্রুপের পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু, পাবনা পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল ইসলাম বিশু, পাবনা ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বেবী ইসলাম এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মুক্তার হোসেনসহ অন্যান্য সাংবাদিকবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে ক্লাবের সাবেক সভাপতি রবিউল ইসলাম রবি, প্রফেসর শিবজিত নাগ, রুমী খন্দকার, এবিএম ফজলুর রহমান, সাবেক সম্পাদক আব্দুল মতীন খান, আঁখিনূর ইসলাম রেমনসহ কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে রাষ্ট্রপতি প্রেসক্লাবে পৌঁছালে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছায় স্বাগত জানান অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু ও ক্লাবের বর্তমান নেতৃবৃন্দ। এ সময় বঙ্গভবনের কর্মকর্তাসহ জেলা প্রশাসক ড. শাহেদ মোস্তফা ও পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতির এই সফরকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরো প্রেসক্লাব এলাকা কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলে। আড্ডা শেষে প্রেসক্লাবের আগামী দিনের উন্নয়ন ও সম্ভাবনার বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।