বাবুল আকতার, ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি:
প্রকাশ : ১৯ জুন ২০২৬ রাত ০৬:২৪:৩৭
ভাঙ্গুড়ায় খাদ্যগুদামে কৃষকের ধান ফিরিয়ে দিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের অভিযোগ
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে ভাঙ্গুড়া উপজেলা খাদ্যগুদামে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ৭৭৫ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। ইতোমধ্যে ওই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, কৃষি বিভাগের মাধ্যমে নিবন্ধিত একজন কৃষক সর্বনিম্ন এক মণ থেকে সর্বোচ্চ তিন মেট্রিক টন ধান সরকারি খাদ্যগুদামে বিক্রি করতে পারেন। উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার ৭০০ কৃষকের কৃষি কার্ড ও কৃষক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। ধান সরবরাহের পর মূল্য সরাসরি কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পরিশোধ করার বিধান রয়েছে।
তবে একাধিক কৃষকের অভিযোগ, খাদ্যগুদামে ধান বিক্রি করতে গেলে বিভিন্ন অজুহাতে তাদের ধান গ্রহণ করা হয়নি। অন্যদিকে স্থানীয় ধান-চাল ব্যবসায়ীরা বাজার থেকে প্রতি মণ ধান ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় কিনে সরকারি নির্ধারিত ১ হাজার ৪৪০ টাকা দরে খাদ্যগুদামে সরবরাহ করছেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, এ প্রক্রিয়ায় প্রতি মেট্রিক টন ধানে ব্যবসায়ীরা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ লাভ করছেন। সেই লাভের একটি অংশ সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তার কাছে যাচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
দিলপাশার গ্রামের কৃষক আবু সাইদ বলেন, “আমি খাদ্যগুদামে ধান দিতে গেলে সেখানে দায়িত্বরত এক কর্মকর্তা জানান, ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শেষ হয়ে গেছে। পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানাই।”
একই ধরনের অভিযোগ করে বড়পুকুরিয়া গ্রামের কৃষক মেহেদী হাসান বলেন, “আমি ধান বিক্রি করতে গেলে আমাকে বলা হয়, ধান সংগ্রহ শেষ হয়েছে, আর নেওয়া হবে না।”
অভিযোগের বিষয়ে খাদ্যগুদামের উপপরিদর্শক নিরঞ্জন কুমার ঘোষ বলেন, “সরকারি খাদ্যগুদামে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকেই ধান কেনা হয় এবং মূল্য তাদের নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পরিশোধ করা হয়। এখানে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই।”
এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর খাদ্যগুদামের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ডেকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয়ের ব্যবস্থা করা হোক, যাতে তারা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত না হন।