কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৭ জুন ২০২৬ রাত ১০:৫৩:১১
কিশোরগঞ্জে প্রায় ৫ লাখ টাকার ১১৬টি অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ
রবিবার (৭ জুন) পরিচালিত এসব অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেন কিশোরগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম।
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ইটনা উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে জিরোপয়েন্ট সংলগ্ন হাওর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫২টি চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়। এসব জালের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১ হাজার ৫৬০ মিটার এবং আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
একই দিনে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নের লাউয়াখালী বিল ও আশপাশের এলাকায় পরিচালিত অভিযানে আরও ২৪টি চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত জালের দৈর্ঘ্য প্রায় ৭২০ মিটার এবং আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮৪ হাজার টাকা।
অন্যদিকে নিকলী উপজেলার ছাতিরচর ও গুরুই ইউনিয়ন সংলগ্ন নয়ানবালি জলমহালে পৃথক অভিযানে ৪০টি চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়। এসব জালের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১ হাজার মিটার এবং বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
সব মিলিয়ে তিন উপজেলায় জব্দকৃত ১১৬টি জালের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ হাজার ২৮০ মিটার এবং আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। পরে জব্দ করা জালগুলো জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, “চায়না দুয়ারি জাল অত্যন্ত ক্ষতিকর ও নিষিদ্ধ মৎস্য আহরণ উপকরণ। এ জালের সূক্ষ্ম ফাঁসের কারণে মাছের পোনা, ডিম ও ছোট আকারের মাছ নির্বিচারে ধরা পড়ে। ফলে প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের প্রজনন ও উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।”
তিনি আরও বলেন, দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং হাওরাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য রক্ষার স্বার্থে এ ধরনের জালের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ভবিষ্যতেও অবৈধ জালের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযানে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। পাশাপাশি জেলে ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে অবৈধ চায়না জালের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতামূলক প্রচারণাও চালানো হয়।