মোঃ মোখলেছুর রহমান, কোনাবাড়ী, গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬ দুপুর ০২:৫২:২৮
টঙ্গীর আলোচিত ঘটনায় মাদ্রাসা শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর
গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার কারীউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মুসলেহ উদ্দিনের (৩০) জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
রোববার দুপুর ১ টার সময় অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ওমর হায়দার তাঁর জামিনের আবেদন করা হলে শুনানি শেষে তা নামঞ্জুর করেন। গ্রেপ্তার মাদ্রাসাশিক্ষক মুসলিম আহম্মেদ টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার শিক্ষক।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মহিউদ্দিন জানান, আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পাশাপাশি ২২ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি পর্যালোচনা করে আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী শরিফুল আলম আদালতের এ আদেশে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তাঁরা আদালতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। তাঁর দাবি, তাঁর মক্কেল নির্দোষ এবং আদালতে তা প্রমাণ করবেন।
এর আগে এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়। গত ২২ অক্টোবর গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের তদন্তে শনিবার টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার ওই মাদ্রাসা পরিদর্শন করে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান। তবে ঘটনার তদন্ত এখনো চলমান।
পুলিশ ও শিশুটির পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৯ অক্টোবর মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে শিশুটিকে যৌন নিপীড়ন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ওই দিন বাড়ি ফিরে শিশুটি ভীত ও মনমরা ছিল। পরে মা-বাবার কাছে সে ঘটনার কথা জানায়।
শিশুটির মা মালিহা আক্তারের অভিযোগ, মেয়ের কাছ থেকে ঘটনা জানার পর তিনি মাদ্রাসার এক শিক্ষিকাকে বিষয়টি জানান। পরে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপালকেও অভিযোগের কথা জানান তিনি। তাঁর দাবি, পরদিনও অভিযুক্ত শিক্ষক ক্লাস নেন এবং শিশুটির কাছ থেকে বাসার ঠিকানা জানতে চান। পরে ওই শিক্ষক তাঁদের বাসায়ও যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
গত ২২ অক্টোবর শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতেই তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন, মব সৃষ্টি করতে নয়। মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা লুটের অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি। একই সঙ্গে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ ও মারধরের ঘটনার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা–সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।