নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দুপুর ০২:৪৯:৪৯
স্কুল-কলেজের মাঠগুলো শিশু-কিশোরের জন্য খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর
স্কুল-কলেজের মাঠ শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, স্থানীয় শিশু-কিশোরদের জন্যও উন্মুক্ত রাখার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, খেলাধুলার প্রসারে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো মাঠের সহজ প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা।
বর্তমানে দেশের অনেক স্কুল-কলেজে বড় মাঠ থাকলেও পাঠ শেষ হওয়ার পর সেগুলো বন্ধ রাখা হয়। এতে আশপাশের শিশু-কিশোররা নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ পায় না।
এই বাস্তবতা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, স্কুলের মাঠ সন্ধ্যা পর্যন্ত খোলা রাখার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে মাঠ ব্যবহারের একটি কাঠামো তৈরি করা হবে বলেও জানান তিনি।
তার মতে, বড় স্টেডিয়াম নির্মাণের চেয়ে বেশি প্রয়োজন প্রতিটি এলাকায় খেলাধুলার পরিবেশ গড়ে তোলা। আর সেই পরিবেশ তৈরির প্রথম ধাপ হলো স্কুল ও কলেজের মাঠ।
শিশু-কিশোররা যদি সহজে খেলতে পারে, তবে তৃণমূল থেকে প্রতিভা উঠে আসবে, এমনটাই বিশ্বাস ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের।
সভায় উপস্থিত সাংবাদিকরা জানান, অনেক জেলায় স্টেডিয়াম থাকলেও সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সীমিত। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠগুলো সচল থাকলে স্থানীয় পর্যায়ে ফুটবল, ক্রিকেট, হ্যান্ডবল কিংবা অ্যাথলেটিকসের চর্চা বাড়বে। এতে সামাজিক সম্প্রীতি ও সুস্থ বিনোদনের সুযোগও বাড়বে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু অবকাঠামো নয়, খেলোয়াড় তৈরির দিকেই গুরুত্ব দিতে চান তারা। এজন্য জেলা প্রশাসকদের প্রতি খালি মাঠ ও স্কুল মাঠ খেলার উপযোগী করে তোলার আহ্বান জানানো হবে। মাঠ ব্যবহারের সময়সূচি নির্ধারণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথাও জানান তিনি।
ক্রীড়াবিদ ও অভিভাবক মহলের মতে, স্কুল-কলেজের মাঠ উন্মুক্ত হলে মোবাইল ও অনলাইন নির্ভরতা কমবে এবং শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলা জনপ্রিয় করতে এই উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মনে করছেন তারা।
সব মিলিয়ে, স্টেডিয়ামকেন্দ্রিক উন্নয়নের বাইরে এসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠকে কেন্দ্র করে ক্রীড়া বিকাশের যে পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে দেশের তৃণমূল খেলাধুলায় নতুন গতি আসতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ঘোষণার পর বাস্তবে কতটা মাঠ উন্মুক্ত হয়।