মোঃ শান্ত শেখ, টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৬ বিকাল ০৪:১৫:১৬
গোল্ডেন এ-প্লাস পাওয়া মেধাবী অন্তর এখন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ছে, চিকিৎসা বন্ধ অর্থাভাবে
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কুশলী ইউনিয়নের বাসিন্দা ভুলু মিয়া শেখ একজন দরিদ্র কৃষক। দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তার অভাবের সংসার। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও ছেলেকে উচ্চশিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছিল অন্তর। কঠোর পরিশ্রম ও মেধার জোরে ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ-প্লাস অর্জন করে সে। তার সাফল্যে পরিবারসহ পুরো এলাকায় আনন্দের বন্যা বয়ে যায়।
কিন্তু সেই আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। এসএসসি পরীক্ষার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে অন্তর। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, সে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। এই সংবাদে মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে পরিবার। যে ঘরে একসময় ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন বোনা হতো, সেখানে এখন শুধুই উৎকণ্ঠা, কান্না আর অনিশ্চয়তা।
চিকিৎসকদের মতে, অন্তরের সুস্থতার জন্য জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন, যার ব্যয় প্রায় ১৬ লাখ টাকা। একজন দরিদ্র কৃষকের পক্ষে এই বিপুল অর্থ জোগাড় করা প্রায় অসম্ভব।
ছেলের চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে সর্বস্ব হারিয়েছে পরিবারটি। বসতভিটা ছাড়া তাদের কোনো জমিজমা নেই। চিকিৎসার খরচ চালাতে পরিবারের একমাত্র গাভীটিও বিক্রি করে দিয়েছেন বাবা ভুলু শেখ। আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয় করে এক মাস চিকিৎসা চালানো গেলেও বর্তমানে অর্থাভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
অন্তরের বাবা ভুলু শেখ বলেন, “আমি একজন গরিব কৃষক। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় নিয়মিত কাজও করতে পারি না। ছেলের চিকিৎসার জন্য যা ছিল সব খরচ হয়ে গেছে। এখন আর কোনো সামর্থ্য নেই। আমি দেশবাসীর কাছে আমার সন্তানের জীবন ভিক্ষা চাই। সবাই একটু সহযোগিতা করলে হয়তো আমার ছেলেটাকে বাঁচানো সম্ভব হবে।”
কান্নাজড়িত কণ্ঠে অন্তরের মা বলেন, “আমার স্বপ্ন ছিল ছেলে লেখাপড়া করে বড় মানুষ হবে, সমাজ ও দেশের সেবা করবে। কিন্তু আজ তাকে বাঁচানোর জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে সাহায্য চাইতে হচ্ছে।”
অন্যদিকে অন্তরের বৃদ্ধ দাদি দিনরাত নাতির সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছেন। পরিবারের সদস্যদের চোখে এখন একটাই স্বপ্ন—অন্তর যেন আবার সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা তাহের শেখ বলেন, “অন্তর অত্যন্ত ভদ্র, নম্র ও মেধাবী ছেলে। আমাদের এলাকায় ওর মতো শিক্ষার্থী খুব কমই আছে। অর্থের অভাবে যেন এমন একটি মেধাবী প্রাণ ঝরে না যায়, সেজন্য সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত।”
প্রতিবেশী নবনী শিকদারও অন্তরের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
স্থানীয়দের বিশ্বাস, সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে অন্তর আবারও সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে। একটি মেধাবী প্রাণ আজ বেঁচে থাকার সংগ্রামে লড়ছে। সমাজের মানবিক মানুষ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহযোগিতাই পারে অন্তরের চিকিৎসার পথ সুগম করতে এবং তার জীবনে নতুন আশার আলো ফিরিয়ে আনতে।