নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৬ রাত ১১:৪৭:২৮
প্রত্যেক নাগরিককে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করাই সরকারের সংকল্প : ডা. জুবাইদা
প্রত্যেক নাগরিককে মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করাই বর্তমান সরকারের সংকল্প বলে জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেছেন, `মানসম্মত চিকিৎসাসেবা সবার দোরগোড়ায় থাকবে, ইনশা আল্লাহ।’
শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে জাতীয় সংসদের এলডি হলসংলগ্ন মাঠে ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাবের উদ্যোগে দুস্থ শিশুদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ, আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জুবাইদা রহমান বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি একটি মৌলিক অধিকার। প্রত্যেক নাগরিককে মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করাই বর্তমান সরকারের সংকল্প। আমাদের বিশ্বাস, আমাদের সংকল্প- চিকিৎসা খরচ মেটাতে আর সর্বস্বান্ত নয়। প্রতিটি মানুষ চিকিৎসা পাবে তার প্রয়োজন অনুযায়ী, সামর্থ্য অনুযায়ী নয়। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূল ভিত্তি-স্তম্ভ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ২৪ ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্স সেবা এবং এগুলোকে মা, শিশু ও নবজাতকদের স্বাস্থ্যসেবার মূল কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’
জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স পুল ও জরুরি সেবা নেটওয়ার্ক স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করে ডা. জুবাইদা বলেন, ‘তাদের লক্ষ্য সময়মতো অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে আর কোনো মানুষ যেন তার জীবনের শেষ নিশ্বাস ত্যাগ না করে। যাতে ২৪ ঘণ্টা রোগী পরিবহন ও জরুরি সহায়তা পাওয়া যায়। মেডিকেল শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার জন্য সরকারি মেডিকেল কলেজ ও স্নাতকোত্তর ইনস্টিটিউটসমূহের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী বলেন, ‘প্রতিটি স্বাস্থ্যকর্মীর জন্য থাকবে সুসংগঠিত কর্মজীবন পরিকল্পনা। নার্স, মিডওয়াইফ, প্যারামেডিক, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার প্রত্যেকের আলাদা ক্যারিয়ার কাঠামো এবং পদোন্নতি ও পদায়ন হবে যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে। স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।’
চিকিৎসা বর্জ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চিকিৎসা বর্জ্যের নিরাপদ ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টি, উৎসে পৃথকীকরণ, নিরাপদ পরিবহন এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাত নিয়ে সরকারের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের জন্য সবার আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও সহযোগিতা অতীব প্রয়োজন। আমরা যারা বিশেষায়িত মেডিকেল শিক্ষায় শিক্ষিত, তারা সংকল্পবদ্ধ হয়ে নিশ্চয় আপামর জনগণকে পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা কিছুটা হলেও নিশ্চিত করতে পারব। সম্পূর্ণ সফল না হলেও চেষ্টার ঘাটতি যেন না থাকে, যেন পিছিয়ে না যায়। করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল সরকারি হাসপাতালগুলো দালালমুক্ত করতে সব চিকিৎসকের সহায়তা চান।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এমপি চিকিৎসকদের সেবার মনোভাব নিয়ে রোগীদের চিকিৎসা দিতে আহ্বান জানান।